ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ z ক্যাটাগরিতে যাচ্ছে

0
2719

স্টাফ রিপোর্টার :  আয় বাড়লেও শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ।স্টক এক্সচেঞ্জটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একাধিক পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  যদি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুজিবাজারের আওতায় থাকত তবে  z ক্যাটাগরিতে যেত। কারন হিসেবে তারা বলেন পুজিবাজারের আওতায়ভুক্ত যদি কোন কোম্পানি  লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে সেই কোম্পানিকে  z ক্যাটাগরিতে পাঠান হয়।

ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে সংস্থাটির এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ২০১৪ সালের জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন শেয়ারধারীদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এদিকে আগের অর্থবছরের চেয়ে ২০১৪ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে ডিএসইর শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ১০ পয়সা বেড়েছে। বছর শেষে সংস্থাটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৪ পয়সায়। ২০১৩ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৬৪ পয়সা।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী গতকাল মঙ্গলবার  বলেন , ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তিটাকে আরও শক্তিশালী করতে এ বছর লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। কারণ, বছর শেষে যে আয় হয়েছে তার একটি অংশ শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হলে তাতে এটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য বা এনএভি (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) কমে যাবে। যেহেতু এখনো শেয়ারধারীদের ৬০ শতাংশ শেয়ার অবিক্রীত রয়েছে, এ অবস্থায় এনএভি কমলেও তা ভবিষ্যতে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আর্থিক ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।

স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক করা বা ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর ডিএসই একটি লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত হয়। এখন এর আর্থিক বছর হিসাব করা হচ্ছে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর ডিএসইর পরিশোধিত মূলধন ঠিক করা হয় ১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুর ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০টি শেয়ারে বিভক্ত। মোট শেয়ারের মধ্যে ৪০ শতাংশ বা ৭২ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার ৬০০টি শেয়ার ২৫০ জন শেয়ারধারীর মধ্যে সমান সংখ্যায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬০ শতাংশ বা ১০৮ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০টি শেয়ার কৌশলগত, সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রির জন্য ব্লক অ্যাকাউন্ট বা আলাদা হিসাবে রাখা হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ২০১৩-১৪ সালের আর্থিক বছরে মোট ১৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় করেছে; যার বিপরীতে খরচ করেছে ৫৪ কোটি টাকা। আয়-ব্যয়ের যোগ-বিয়োগ শেষে প্রকৃত আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা। এর আগে ২০১২-১৩ আর্থিক বছরে ডিএসইর মোট আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭২ কোটি টাকা। তার বিপরীতে খরচ হয় ৫৬ কোটি টাকা। ফলে ওই বছর প্রকৃত আয় বা মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।

ডিএসইর আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত আর্থিক বছরেও আয়ের বড় উৎস ছিল ব্যাংকসুদ। এই খাত থেকে সংস্থাটির আয় হয়েছে প্রায় ১১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ কোটি টাকা বেশি। ডিএসইর আয়ের দ্বিতীয় বড় উৎসটি ছিল লেনদেন মাশুল। এ খাত থেকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ কোটি টাকা বেশি।

আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, গত বছর ডিএসইর ব্যয়ের বড় খাতটি ছিল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি। এ খাতে সংস্থাটিকে ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। ডিএসইর সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটিতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে বেতনভুক্ত চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ব্যয়ের দিক থেকে ডিএসইর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সিস্টেম বা প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণ খাত। এ খাতে গত বছর প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া ডিমিউচুয়ালাইজেশন-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের জন্য গত বছর ছয় কোটি টাকা ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here