লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর বিলোপের প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

0
495

স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী করতে আয়কর ও করপোরেট করে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে লভ্যাংশ আয়ের ওপর বহুস্তর কর ব্যবস্থার বিলোপ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূলধনি মুনাফা এর সাবসিডিয়ারিতে বিনিয়োগ হলে এর ওপর আয়কর অব্যাহতি ও ৫০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির জন্য বিশেষ কর রেয়াত সুবিধার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে বুধবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অন্যান্য প্রস্তাবের পাশাপাশি পুঁজিবাজার-সম্পর্কিত এ প্রস্তাবগুলোও তুলে ধরে এমসিসিআই। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য-কর্মকর্তা ও এমসিসিআইয়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় এমসিসিআই সহসভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, বিদ্যমান আয়কর আইনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কিছু জটিলতা রয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪তে তালিকাভুক্ত মূল কোম্পানির মূলধনি মুনাফা এর সাবসিডিয়ারির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হলে সে মূলধনি মুনাফার ওপর করের বিষয়ে কোনো বিধান সংযুক্ত নেই।

দেশের পুঁজিবাজারের বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এ বিষয়ে নতুন আইন করা দরকার। আমাদের প্রস্তাব, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূলধনি সম্পত্তি হস্তান্তর হতে মূলধনি মুনাফা অর্জিত হলে তা ওই কোম্পানির সাবসিডিয়ারির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে সেখানে আয়কর অব্যাহতি দেয়া হোক।

শেয়ারবাজারে উন্নয়নের জন্য দ্বিতীয় প্রস্তাবটি তুলে ধরে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি ও এমসিসিআইয়ের ট্যাক্সেশন সাব কমিটির সদস্য আদীব এইচ. খান বলেন, বর্তমানে সব লভ্যাংশ গ্রহণকারীর আয়ের ওপর করারোপের বিধান রয়েছে। হোল্ডিং কোম্পানি তাদের অপারেটিং কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ গ্রহণের সময় একবার কর দিতে হয়। আবার অপারেটিং কোম্পানিকে তাদের লভ্যাংশ গ্রহণে আয়কর দিতে হয়।

এভাবে একই আয়ের ওপর দুবার কর দেয়ার কারণে কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশও দিতে পারে না তারা। মালয়েশিয়া ও ভারতসহ অনেক দেশে এমন পরিস্থিতিতে বহুস্তর কর পরিহার করে একটি সাধারণ বিধান রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের আয়কর আইনে তা সংযোজনের প্রস্তাব করেন তিনি।

এছাড়া বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করে আদীব এইচ খান বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য সাধারণ করপোরেট করের হার ২৫ শতাংশ। যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দেয়, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখলে লভ্যাংশ প্রদানের হার বাড়বে। এক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারীদের ১০ শতাংশ পর্যন্ত কর রেয়াত সুবিধা দেয়া যেতে পারে। এতে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বেশি লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আগেও এমন বিধান ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ারবাজার উন্নয়নে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছাড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার আরো কমিয়ে নিয়ে আসা, কোম্পানির অনুমোদনযোগ্য খরচের সীমা বাড়ানো, শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল থেকে সুবিধাভোগীদের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ উেস কর প্রত্যাহার, এলসির বিপরীতে উেস কর প্রত্যাহার, জীবন বীমা পলিসির ওপর প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত পেমেন্টে ৫ শতাংশ উেস কর প্রত্যাহার ও বিনিয়োগে রেয়াত সুবিধা বাড়ানোসহ বেশকিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে এমসিসিআই।

বক্তারা বলেন, এর প্রতিটিই কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here