রূপসী বাংলার সংস্কার শেষ, রাজস্ব পরিশোধে সময় দাবি

0
891

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্দিষ্ট সময়ে সংস্কার শেষে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় রাজস্ব পরিশোধে আরো এক বছর সময় চায় রূপসী বাংলা হোটেলের স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড। চার বছর মেয়াদি ডেফার্ড পেমেন্ট পদ্ধতিতে রাজস্ব প্রদানের জন্য ২০১৮ সালের পরিবর্তে ২০১৯ সালে পরিশোধ শুরু করতে চায় কোম্পানিটি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব অঞ্জনা মজলিশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এ অব্যাহতির আবেদন করেছে কোম্পানিটি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাণধীন বিডি সার্ভিস একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। কোম্পানির পরিচালনাধীন হোটেলটিতে এখনো সংস্কারকাজ চলছে। সংস্কার শেষে হোটেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২০১৭ সালের প্রথমদিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি সমস্যার কারণে কর্তৃপক্ষ তা পারেনি।

ব্যাংকঋণের মাধ্যমে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর তা সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ায় কোম্পানির তারল্য সংকট বেড়েছে। ফলে হোটেল সংস্কারে ব্যবহূত আমদানি পণ্যের সব ধরনের শুল্ক-কর ডেফার্ড পদ্ধতিতে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে পরিশোধের কথা থাকলেও তা পারছে না কোম্পানিটি।

চিঠিতে আরো বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের বিপরীতে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য ৩৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা সঠিক সময়ে দিতে পারছে না রূপসী বাংলা হোটেল। এ অবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার পর আগামী বছর থেকে চার বছর মেয়াদি সমান কিস্তিতে কর পরিশোধের সুযোগ দিতে মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধক্রমে সুপারিশ করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দ না থাকা ও সংস্কারকাজ চলমান থাকায় শুল্ক-কর পরিশোধে এনবিআরের কাছে চার বছর সময় চায় রূপসী বাংলা কর্তৃপক্ষ। সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের আবেদন গ্রহণ করে ডেফার্ড পেমেন্ট পদ্ধতিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে কর পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আরো এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করেছে। তবে তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে এনবিআর।

এনবিআরের শুল্ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সময়মতো বরাদ্দ না পেলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য পর্যালোচনা করে ডেফার্ড পেমেন্ট পদ্ধতিতে শুল্ক-কর পরিশোধের সুযোগ দেয় এনবিআর। রূপসী বাংলা হোটেলের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সংস্কার শেষে নতুন নামে চালু করার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে রূপসী বাংলা হোটেলের উন্নয়নকাজ শুরু করে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা আসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। এজন্য গত ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শেষ করার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। সংস্কার শেষে হোটেলের রুম সংখ্যা ২৭৭ থেকে কমে ২৩১তে নেমে আসবে।

চুক্তি অনুযায়ী ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের ব্র্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর হোটেলটি ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ নামে ব্র্যান্ডিং করা হবে। ইন্টারকন্টিনেন্টালের জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন জেমস ম্যাকডোনাল্ড। হোটেল সংস্কারের পর বিনিয়োগের অর্থ উত্তোলনে প্রয়োজনে মার্কেটে শেয়ার ছাড়া হতে পারে বলে জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ১৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৪ টাকা ৩৯ পয়সায়।

লোকসানের কারণে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি বিডি সার্ভিসেস। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ হিসাব বছরে বিডি সার্ভিসেসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৪ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে লোকসান ছিল ৫ টাকা ১০ পয়সা। ৩০ জুন এর এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬ টাকা ৯ পয়সায়।

২০১৬ সালের ৩০ জুন ১৮ মাসে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্যও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি বিডি সার্ভিসেস। জুন ক্লোজিংয়ের বাধ্যবাধকতায় সেবার ১৮ মাসে হিসাব বছর গণনা করেছে ভ্রমণ-অবকাশ কোম্পানিটি। ২০১৪ হিসাব বছরে ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পান কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। সে বছর এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩৮ পয়সা।

উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচ তারকা রূপসী বাংলা হোটেলের পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ কারণে জেড ক্যাটাগরিতে চলে আসে বিডি সার্ভিসেস। দীর্ঘদিন ধরে স্টক এক্সচেঞ্জে বিডি সার্ভিসেসের কোনো শেয়ার হাতবদল হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here