রুপির মূল্যহ্রাসে বিপাকে দেশের রপ্তানি খাত

0
1802
bangladesh bank logoস্টাফ রিপোর্টার :  দেশে ভারতীয় রুপির নাকাল পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রুটির মূল্যহ্রাসের কারণে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাত। আশঙ্কার কথা জানিয়ে রেবাবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বরাবর এক চিঠি প্রেণে করেছে রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। প্রতিদিন দরপতন ঘটেই চলছে। ভারতীয় রুপির এই দরপতনের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প তখা রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারত বিশ্ববাণিজ্যে অন্যতম শক্তিধর দেশ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারত বাংলাদেশের অধিকাংশ রপ্তানিপণ্যের একটি প্রতিযোগী দেশ।
1010এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ভারতীয় রুপির দরপতনের কারণে দেশটির রপ্তানিকারক, ব্যাংকমাধ্যম ‘রপ্তানি বিলে’ অধিক হারে আয় করতে সক্ষম হচ্ছে। এই আয় বৃদ্ধির কারণে তারা অভিন্ন পণ্যের রপ্তানিমূল্য হ্রাস করছে, যে কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের মূল্য অধিক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। অর্থাৎ ভারতের রপ্তানিমূল্যের চেয়ে ‘একই পণ্যের’ বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানীমূল্য সাময়িকভাবে বেশি হওয়ার কারণে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য অসুবিধার সম্মুখীন হবে বলে মনে করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী এবং গভর্নরকে দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে-বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার স্বার্থে তথা রপ্তানিমুখী শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নীতি-সহায়তা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তাই মার্কিন ডলারের সঙ্গে ‘টাকার’ বিদ্যমান বিনিময়হার ‘যৌক্তিকভাবে’ সাময়িক পুনর্নির্ধারণ করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ইএবি।
এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড কেনার মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থায় ৮ হাজার কোটি রুপি (১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের সমান) সরবরাহ করবে। রুপির দরপতন ঠেকাতে মুদ্রা সরবরাহ কমানোর কয়েকদিনের মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিল আরবিআই। তবে ঋণ সরবরাহ বাড়াতে এমন পদক্ষেপই প্রত্যাশিত ছিল।
বিশ্লেষক এবং ব্যাংকাররা বলছেন, মাসের শেষ দিকে এসে আমদানিকারকদের কাছে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকহারে অর্থ প্রত্যাবাসন করার কারণে মার্কিন মুদ্রাটির দাম বাড়ছে। অন্যদিকে ভারতীয় রুপির দর পড়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলেও তারা মনে করেন। কারো কারো মতে, রুপির আরো দরপতন অনিবার্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here