রুপির অবমূল্যায়ন, টাকার মান বেড়েছে ৪ শতাংশ

0
4437
DOLAR... 1স্টাফ রিপোর্টার : কমেছে ভারতীয় মুদ্রার মান। বেড়েছে ডলারের মূল্য। মার্কিন ডলারের দাম এসে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ০৪ রুপিতে। ভরতীয় প্রতি রুপিতে এক বছরে দাম করেছে ১৯ শতাংশ। এর ফলে বাংলাদেশী মুদ্রা টাকার মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। তবে ভারতীয় ব্যসায়ীদের চলছে বৃহস্পতি।
পরিসংখ্যানে জানা গেছে, এক বছর আগে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৫৫ দশমিক ৫০ রুপি। এ হিসাবে এক বছরে রুপির দাম কমেছে ১৯ শতাংশ। এর ফলে ভারতীয় রফতানিকারকের বৃহস্পতি তুঙ্গে। প্রতি ডলারের পণ্য রফতানি করে আগে ৫৫ রুপি পেলেও বর্তমানে তারা পান ৬৬ রুপি। এর ঠিক বিপরীত অবস্থা বাংলাদেশের রফতানিকারকদের। গেল এক বছরে বাংTAKA..লাদেশী মুদ্রা টাকার মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে বেড়েছে প্রায় চার শতাংশ।
এ বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ভারতের মুদ্রার দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ নানাভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রুপির বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি কমে যাবে। আবার ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে।
২০১২ সালের ২০ আগস্ট প্রতি ডলারের বিপরীতে ৮১ টাকা ৬ পয়সা পাওয়া যেত। বর্তমানে পাওয়া যায় ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সা। একই পরিমাণের পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের প্রাপ্তি সাড়ে তিন টাকা কমে গেছে। ভারতীয় মুদ্রার দাম কমে যাওয়ায় দেশটিতে বাংলাদেশর রফতানি কমে আসবে। ভারত থেকে আমদানিও বাড়বে একই কারণে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ভারতীয় রুপির দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রফতানিকারকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
রফতানিকারকরা জানান, একই দামে পণ্য রফতানি করা হলেও স্থানীয় মুদ্রায় ভারতের উদ্যোক্তারা ২৩ শতাংশ বেশি সুবিধা ভোগ করেন। ফলে ক্রেতা ধরে রাখতে ভারতের উদ্যোক্তারা তাদের রফতানি পণ্যের দামও ক্ষেত্রবিশেষ কমাতে পারছেন। এ অবস্থায় টাকার দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম কমিয়ে ক্রেতা ধরে রাখতে পারছেন না বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন আহসান মনসুর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। তবে পোশাকের রফতানিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। ভারতের মুদ্রার মান কমে এলে দেশটির কাছে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার মার খেতে পারে।

এ বিষয়ে রফতানিকারকদের সংগঠন ইএবির প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক। মোট রফতানি আয়ের ৮০ ভাগ আসে এ খাতের হাত ধরে। কিন্তু অবকাঠামো সমস্যা ও আন্তর্জাতিক চাপে এ খাতের উদ্যোক্তারা দিশেহারা। তিনি বলেন, ভারতের মুদ্রার ২০ শতাংশ অবমূল্যায়নের বিপরীতে আমাদের মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে রফতানিকারকদের কাছ থেকে বিশেষ মূল্যে ডলার ক্রয়ের দাবি জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here