রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে প্রথম ইতিহাস

0
206

সিনিয়র রিপোর্টার : করোনার ধাক্কায় গত তিন মাসে রফতানি নেমে গেছে তলানিতে। বিপর্যয় নেমেছে রেমিট্যান্সেও। দেশের আমদানিও কমেছে তরতর করে। খারাপ খবরের ছড়াছড়ির মধ্যেও সুসংবাদ এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ, বিদেশী ঋণ ও দান অনুদানে রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৪ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভের পরিমান ৩৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করলো। বৃহস্পতিবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের আমদানিতে ধস নেমেছে। একই সঙ্গে ভয়াবহ মাত্রায় কমেছে রফতানিও। করোনার ধাক্কায় বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থবির থাকলেও প্রবাসীরা মে মাসে দেড় বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৫০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।

১ ও ২ জুন প্রবাসী আয়, অনুদান ও ঋণ হিসেবে আরো ১৬ কোটি ডলার এসেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৪২৩ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশী মুদ্রায় রিজার্ভের পরিমান ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমদানি ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় দেশের রিজার্ভের পরিমান বেড়েছে। প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিদেশী ঋণ ও অনুদান আসছে। তবে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ানো সম্ভব না হলে রিজার্ভের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে।

দেশে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০১৭ সালের ২২ জুন। আর সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের রেকর্ড ছিল ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে রিজার্ভ ৩২ থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ওঠানামা করছিল। গত দুই বছর ধরেই ব্যাংকগুলোর সংকট মেটাতে রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারনে রিজার্ভের পরিমান বাড়ছিল না।

করোনার ধাক্কায় চলতি বছরের মার্চে দেশের আমদানি খাত বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ফলে মার্চে বাজার থেকে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে ৮২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করতে হয়েছে।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে দেশের রফতানি আয় ছিল ৩০৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার। করোনার আঘাতে এ বছরের এপ্রিলে তা মাত্র ৫২ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। সে হিসেবে এপ্রিল মাসে রফতানি আয় কমেছে ৮৩ শতাংশ। এপ্রিল পর্যন্ত চলতি বছরের দশ মাসে রফতানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ০৯ শতাংশ।

বিপর্যয় নেমে এসেছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যখাত রেমিট্যান্সেও। এপ্রিলে রেমিট্যান্স কমেছে ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবে বিশ্বব্যাপী ঘরবন্দি থাকা সত্তে¡ও প্রবাসীরা এখন পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

বৈশ্বিক এ মহামারিতে দেশের আমদানি খাতেও বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত এপ্রিল মাসে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে মাত্র ১৬০ কোটি ডলারের। ২০১৯ সালের একই মাসে ৫২৬ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।

এ হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিলে এলসি খোলা কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। একই পরিস্থিতি এলসি নিস্পত্তিতেও। এপ্রিলে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৯৫ কোটি ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে ৫০৮ কোটি ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিকে সঠিক ধারায় আনতে আমদানি বাড়াতে হবে। এর ফলে চাপ পড়বে রিজার্ভের উপর। বিপরীতে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়াতে না পারলে দেশের বাজারে ডলারের তীব্র সংকট শুরু হবে। ফলে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here