রাষ্ট্রায়ত্ত ২০ কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে

0
4874

বিশেষ প্রতিনিধি : রাষ্ট্রায়ত্ত কিছু কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনা হবে। এরমধ্যে প্রথমে জ্বালানীখাতের কোম্পানিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তালিকাভুক্তির জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে শিগরিরই এ ব্যবস্থা নেবে জ্বালানি বিভাগ। কেননা দীর্ঘদিন ধরেই তালিকাভুক্তির বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে আসছে অর্থমন্ত্রণালয়।

জ্বালানীখাতের কোম্পানিগুলো হচ্ছে- পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), হাইড্রো-কার্বন ইউনিট, বিস্ফোরক অধিদফতর, খনিজ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি), ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (বিপিআই)। এর মধ্যে পেট্রোবাংলার অধীনে আছে ১৩টি কোম্পানি এবং বিপিসির অধীনে ৭টিসহ ২০ টি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি।

তবে জ্বালানীখতে বর্তমানে পেট্রোবাংলার একমাত্র কোম্পানি হিসেবে শেয়ারবাজারে আছে তিতাস। আর বিপিসির চারটি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ দুই সংস্থার বাকি লাভজনক কোম্পানিগুলোকে ক্রমান্বয়ে শেয়ারবাজারে আনা হবে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির কারণে গত এক মাস ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৭ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মূলধন মার্কেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক চিঠির পরই নতুন আইপিও অনুমোদন বন্ধ করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতেই সরকার এধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে করে নতুন কোম্পানি বাজারে আসার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি হলে কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া নিজস্ব অর্থে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনারও সুযোগ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো।

২০১০ সালের  ডিসেম্বরের পর লিক্যুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস, বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন, গ্যাস ট্রান্সমিশন, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডটি সিস্টেম লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিকে দ্রুততার সঙ্গে তালিকাভুক্তির নির্দেশ আসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। ২০১১ সালের ১১ জুন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে অগ্রগতির প্রতিবেদন চাওয়া হলেও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ২০১২ সালের জুলাইয়ে শেয়ার ছাড়তে নতুন করে সময় দেয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহে তাদের তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর কাজে আরো গতি আসবে।

জানা যায়, ২০০৮ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেয়ারবাজার বিকশিত হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়। পরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এসেও একাধিকবার এ নির্দেশ দেয়। গত ছয় বছরে একাধিকবার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে ছাড়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রতিবারই এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।

গত ছয় বছরে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ছাড়া সরকারি কোনো কোম্পানিই শেয়ারবাজারে আসেনি। আর পুনঃগণপ্রস্তাবের (আরপিও) মাধ্যমে বাজারে আরো শেয়ার ছাড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেঘনা পেট্রোলিয়াম, তিতাস গ্যাস, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট ও যমুনা অয়েল বাজারে বাড়তি শেয়ার বিক্রি করে। তবে ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিডের আরো শেয়ার ছাড়ার নির্দেশনা চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।

এছাড়া শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেয়েও বাজারে আসতে ব্যর্থ হয় রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড। অন্যদিকে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকিং কোম্পানি জনতা ব্যাংক লিমিটেড অস্বাভাবিক প্রিমিয়াম দাবি করে শেয়ার ছাড়ার আবেদন জানিয়েও পরে পিছিয়ে যায়।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ধারাবাহিক মুনাফা দেখাতে হয়। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতের বেশির ভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিই এখন এ যোগ্যতা অর্জন করেছে।

পেট্রোবাংলার ২০১২-১৩ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের মুনাফা হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে লভ্যাংশ প্রদান করে ২১ কোটি টাকা। জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশনের মুনাফা হয়েছে ৭৪ কোটি টাকা, সরকারকে লভ্যাংশ দেয় ২৭ কোটি টাকা। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মুনাফা হয়েছে ৩৮৮ কোটি টাকা, লভ্যাংশ প্রদান করে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির মুনাফা হয় ২২ কোটি টাকা, লভ্যাংশ প্রদান করে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বাংলদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ২০০ কোটি টাকা, লভ্যাংশ প্রদান করেছে ২২ কোটি টাকা। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের মুনাফা হয় ৪৬৬ কোটি টাকা, লভ্যাংশ প্রদান করে ১৯০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশনের মুনাফা হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা, লভ্যাংশ প্রদান করে ৯ কোটি টাকা।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ৪০৬ কোটি টাকা, লভ্যাংশ প্রদান করে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে মধ্যপাড়া গ্রানাইট কোম্পানির লোকসান হয় ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। পদ্মা সেতুতে পাথর সরবরাহের চুক্তি হলে এ কোম্পানিটিও মুনাফা করবে বলে জানা গেছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিপিসির কোম্পানি হচ্ছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস। আর তালিকার বাইরে আছে এলপি গ্যাস লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিটি কোম্পানিই বর্তমানে মুনাফা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here