রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ঢাকা স্টিল ২২ বছর পর উৎপাদনে

0
1022
সিনিয়র রিপোর্টার : দীর্ঘ ২২ বছর বন্ধ থাকার পর আবারো চালু হতে যাচ্ছে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড। কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রাংশ স্থাপন শেষে আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ স্টিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি বিএসইসির অর্থায়নে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রাথমিক অবস্থায় ৯ হাজার টন রড উত্পাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি আবারো চালুর একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে একটি বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।

STILLবিএসইসি সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বন্ধ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিনের অব্যবহারে অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে গেছে কারখানা ও যন্ত্রাংশ। নিজস্ব আয় না থাকায় কারখানা ও জমি সংরক্ষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলা মোকাবেলা করতে গিয়ে শুরু থেকেই লোকসান গুনে আসছে বিএসইসি। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ফের চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গাজীপুরের টঙ্গীতে ১৭ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত কোম্পানির মূল কারখানায় প্রাথমিক অবস্থায় রি-রোলিং মিলের দুটি ইউনিটের মধ্যে ম্যানুয়েল মিলটির উত্পাদন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২ কোটি টাকা। এরই মধ্যে কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুতের পুনঃসংযোগের মাধ্যমে যান্ত্রিক ত্রুটি সংশোধন, জনবল নিয়োগ ও টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ শেষ হয়েছে।

অন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রাংশ স্থাপনের পর আগামী ১৫ জুন কারখানাটিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এর আনুষ্ঠানিক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে ১ জুলাই। প্রাথমিক অবস্থায় কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ৯ হাজার টনে।

পরবর্তী সময়ে আরো দুই মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির টঙ্গী ও তেজগাঁওয়ে অবস্থিত অন্য দুটি ইউনিটের উৎপাদনও শুরু করা হবে। চীন থেকে আনা রি-রোলিং উৎপাদন যন্ত্রাংশ স্থাপনের মাধ্যমে মোট উত্পাদন সক্ষমতা তুলে নেয়া হবে ১ লাখ টনে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিএসইসির সচিব মাসুদ আহমেদ বলেন, সরকারের বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা স্টিল চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে এরই মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও শুরু হয়েছে। কাজটি করা হচ্ছে কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়ন ও বিএসইসির তহবিল থেকে। উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে আগামী জুলাই থেকে।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার আগে ব্যক্তিমালিকানায় থাকাকালীন দেশের রড খাতে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা স্টিল লিমিটেড। তখন এর অধীনে কোয়ালিটি আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি ও প্রান্তিক ট্রেডার্স নামে দুটি প্রতিষ্ঠান এমএস রড ও অ্যাঙ্গেল, সিআই (কাস্ট আয়রন) ও অ্যানামেলের তৈজসপত্র তৈরি করত।

১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রায়ত্তকরণের পর বিএসইসির অধীনে দেয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিকদের মামলার কারণে দীর্ঘদিন পর ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। মামলায় চূড়ান্ত রায় না আসায় ২২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কারখানাটি।

এর পর সরকারের বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর উদ্যোগের আওতায় হাইকোর্ট থেকে কারখানা চালুর জন্য আগের মালিককে বারবার নির্দেশনা দেয়া হলেও ব্যর্থ হন তারা। ফলে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি চালুর জন্য বিএসইসিকে অনুমোদন দেয়া হয়। গত ৩ ডিসেম্বর কারখানাটি চালুর অনুমতি দিয়ে বিএসইসিকে একটি পত্র দেয় আইন মন্ত্রণালয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই মাসের ৩১ তারিখে ঢাকা স্টিল পুনরায় চালু করা নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করে বিএসইসি। এতে বিএসইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানকে চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল টিউবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সাইদুর রহমানকে এমডি (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন— বিএসইসির পরিচালক (প্রকৌশল ও বোর্ড) কামাল উদ্দিন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হুমায়ুন কবির, বিএসইসির সচিব মাসুদ আহমেদ ও বিএসইসির প্রধান প্রকৌশলী আমিরুল মোমিন।

ঢাকা স্টিল ওয়ার্কসের এমডি সাইদুর রহমান বলেন, দেশের রডের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প খাতকে শক্তিশালী করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৫ সালে ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড চালুর উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। এরই মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন শেষে জুলাইয়ের শুরু থেকে উত্পাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে রডের চাহিদা ভালো থাকায় বিএসইসির অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো এটিও মুনাফায় থাকবে বলে আশা করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here