সিনিয়র রিপোর্টার : রানার অটোমোবাইলসের শেয়ার লেনদেন দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ২১ মে থেকে একযোগে শুরু হয়। প্রথমদিনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার যোগান দিলেও পরবর্তীতে দর ভাটির দিকে গড়াতে থাকে। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে সে সব চিত্র বদলে যাওয়ার আভাস মিলেছে।

কয়েকদিনের শেয়ায় লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর প্রতিদিন পড়েছে। আইপিও থেকে পাওয়া শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারী ঝড়ের বেগে বিক্রি করে দিয়ে মুনাফা তুলে নেয়ার তুমুল চেষ্টা করেন। যে কারণে শেয়ার দরে ভাটা পড়তে থাকে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ শেয়ার সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ায়।

২১ মে ৯৭ টাকায় প্রথম লেনদেন শুরু হয়। এরপরে ২৩ মে প্রথমদিনের সর্বোচ্চ দর থেকে কমে ৮৩ টাকায় নামে।

শুরু বা প্রথমদিনে দিন শেষে শেয়ার দর কিছুটা বাড়লেও দ্বিতীয় দিন কমে। আস্থার অভাব এবং নতুন আইপিওভুক্ত অন্য কোম্পানির মতো যেন প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে শেয়ার বিক্রি করতে থাকেন বিনিয়োগকারী। যে কারণে তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর ৮.৪০ টাকা কমে সর্বশেষ ৮৮.৯০ টাকায় লেনদেন হয়।

মঙ্গলবারের শেয়ার লেনদেনর চিত্র : স্টক বাংলাদেশ

ঝড়ের বেগে শেয়ার শেয়ার লেনদেন হলে অনেকটা দর পড়ে যায়। কাট-অফ প্রাইস ৭৫ টাকার দিকে এগুতে থাকলে আরো ভীতির সৃষ্টি হয়। যদিও দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ২১ মে কোম্পানির লেনদেন শুরু হয় ৯৭ দশমিক ৩০ টাকায়।

তবে তা আর থাকছে না বলে মঙ্গলবার শেয়ার লেনদেন চিত্রে আভাস মিলছে।

শেয়ার দরে মঙ্গলবার কিছুটা স্বাভাবিক চিত্র দেখা মেলে। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর আগের দিনের চেয়ে সকালে ৮৩ টাকায় শুরু হয়ে ১০:৩৩ মিনিটে ৭ হাজার শেয়ার হাত বদল হয়। দিনের এই শুভ সূচনার পরে দরে ঢেউ খেলতে থাকে।

এরপরে ১০:৩৮ মিনিটে ১৪ হাজার ৪৯৮টি শেয়ার হাত বদল হয়। দর কমার বদলে সামান্য স্থান পরিবর্তন করে বাড়তে থাকার আবাস মেলে। এরপরে আরো বিপুল পরিমাণ শেয়ার হাতবদল হতে থাকে। যা দিন শেষে দেখার পালা।

মঙ্গলবার দুপুরে শেয়ারের চিত্রটি ডিএসই থেকে নেয়া

১০ টাকা ফেসভ্যালুর রানার অটোমোবাইলস বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামহ মোট ৭৫ টাকা কাট-অফ প্রাইসে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটি লেনদেনের শুরুর আগে থেকেই বাজারে এর শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ রানারের শেয়ার ভালো বললেও বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী উচ্চ প্রিমিয়ামের কারণে এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে পিছিয়ে গেছেন।

রানার অটোমোবাইলসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০৮ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর রিজার্ভ ও সারপ্লাসের পরিমাণ ৫৬১ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ১০ কোটি ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৯টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ৫০.০৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৮.৩৭ শতাংশ, বিদেশি ০.০৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২১.৫৪ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here