বাড়বে দেশের রপ্তানী, বিনিয়োগে আগ্রহ চীনের

0
1104

হোসাইন আকমল : দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ থেকে রফতানি বৃদ্ধি করতে চান চীনা ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগেও আগ্রহ দেখিয়েছেন তারা। এ লক্ষ্যে চায়না চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-চায়না ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৬শে নভেম্বর। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর (ঢাকা) একটি হোটেলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দিতে দেশে আসছেন ১৩০ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।

প্রতিনিধি দলটিতে বস্ত্র, পোশাক, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, পাট, চামড়া, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিংসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা থাকছেন বলে সূত্রে জানা যায়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসার নিয়ে সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন ব্যবসায়ীরা। আলোচনায় অংশ নিতে প্রায় সাড়ে ৩০০ বাংলাদেশী নিবন্ধন করেছেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। তবে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হলেও দেশটিতে রফতানি তুলনামূলক কম। যেকারণে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এরআগেও চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে এসেছেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন। কারণ সরকার এখন চীনসহ বিভিন্ন দেশকে অর্থনৈতিক অঞ্চল দিচ্ছে। যেকারণে চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগের আগ্রহ বাস্তবায়ন অনেকটাই সহজ হবে।

তিনি বলেন, সম্মেলনের উদ্যোগ চীনের পক্ষ থেকেই নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কেবল তাদের আগ্রহ বহিঃপ্রকাশের পথ তৈরি করে দিচ্ছে এফবিসিসিআই।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছে চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের ৩১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন চায়না চেম্বার অব কমার্সের বাকি সদস্যরা।

বিজিএমইএ ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন ৩১ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি।

যেসব খাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারেননি, এমন খাতগুলোয় বিনিয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, পোশাক শিল্পের পশ্চাৎ সংযোগ, শিল্প খাত ও হাই-ভ্যালুড পণ্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে চীনা ব্যবসায়ীরা একক অথবা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে এলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই উপকৃত হবেন। খাতগুলোয় বিনিয়োগের জন্য আমরা চীনের ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আবদুল মঈন বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়গুলো উঠে এসেছে আলোচনায়। বাংলাদেশ থেকে রফতানি বাড়াতে চায় চীনা ব্যবসায়ীরা। আর এটা সম্ভব হলে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে চীনের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদেশী বিনিয়োগে চীনা অংশ অতি সামান্য। ২০১৫-এর জুন পর্যন্ত মোট পুঞ্জীভূত বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই স্টক) পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫০ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এর মধ্যে চীনের এফডিআই স্টক ১৮ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পণ্য রফতানি বাবদ চীন থেকে রফতানি আয় ছিল ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৪৬ ডলার। একই বছর বিভিন্ন পণ্য আমদানি বাবদ বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৭৫৪ কোটি ৮ লাখ ডলার। সেহিসেবে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ১ হাজার ৬২১ দশমিক ৫৪ ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here