রডের অস্থির মূল্য বৃদ্ধিতে উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা

0
445

সিনিয়র রিপোর্টার : সদ্য বাংলাদেশ এলডিসির তালিকা থেকে উত্তরণ করেছে এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের অন্যতম উপাদান এম এস রডের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে সরকারি বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প থমকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে এম এস রডের দাম বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। যদিও তিন হাজার টাকা কমানোর কথা বলেছেন রি-রেলিং মিলস ওনার্স এসোসিয়শনের নেতারা।

রড উৎপাদনকারীরা বলছেন, রড তৈরি উপাদান স্ক্র্যাপ ও বিলেট আমদানি করতে হয়। যার দাম আর্ন্তজাতিক বাজারে বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কন্সট্রাকশন এসোসিয়েশন ইন্ড্রাস্ট্রিজ (বিএসিআই) বলছে বিশ্ব বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ এবং ফিনিশড গুডসের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ।

দেশে রড উৎপাদনকারীরা এর দাম বাড়িয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। যা সম্পূর্ণ অযোক্তিক। এই উচ্চ মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যহত হবে। নতুবা সরকারকে প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় রিভাইস করতে হবে। যদি সরকার রিভাইস করে তাও প্রায় ছয়মাস থেকে ১ বছর সময় লেগে যাবে।

এছাড়া রডের এই মূল্যবৃদ্ধি অব্যহত থাকলে দেশের অন্যতম বড় এই খাত বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়বে। থমকে যাবে প্রকল্পগুলো। এতে বেকার হয়ে পড়বে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কনস্ট্রাকশন এসোসিয়েশন ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুনীর উদ্দিন আহমেদ জানান, আর্ন্তজাতিক বাজারে রড আমদানির উপাদান স্ক্র্যাচ ও বিলেটের দাম বাড়ানোর অজুহাতে অযৌক্তিকভাবেব রডের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ আর্ন্তজাতিকবাজারে স্ক্র্যাপের দাম বেড়েছে প্রায় শতাংশ অথচ তারা দাম বাড়িয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

এতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্থ হবে। এ মূল্যবৃদ্ধি অব্যহত থাকলে বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়বে এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। এতে কর্মসংস্থান হারাবে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এই দাম বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়কে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি করার সুপারিশ করেছি। এফবিসিসিআই ইতিমধ্যে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে। আমরা সরকারের কাছে এই বিষয়ের দ্রুত সমাধান চাই বলেও জানান এই প্রকৌশলী।

প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আর্ন্তজাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বেড়েছে তা ঠিক। কিন্তু স্ক্রাপ থেকে লৌহজাত অনেক দ্রব্য তৈরি হয়। কিন্তু আর্ন্তজাতিক নিয়ম অনুযায়ী রি ইনফোর্সমেন্ট বার অর্থাৎ রড তৈরি হয় বিলেট থেকে। আর্ন্তজাতিক বাজারে বিলেটের দাম গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৫৬০ ডলার, তখন দেশে রডের দাম ছিল টন প্রতি ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এখন আর্ন্তজাতিক বাজারে বিলেটের দাম আগের থেকে ৩৫ ডলার কমে দাড়িয়েছে ৫২৫ ডলারে অথচ রড কিনতে হচ্ছে টনপ্রতি ৭০ থেকে ৭২ হাজার টাকা।

এছাড়া উৎপাদনকারীরা বলছেন ভারতে রডের দাম বেড়েছে কিন্তু বর্তমানে ভারতে টনপ্রতি রড বিক্রি হচ্ছে ৩৫ হাজার রুপিতে যা বাংলাদেশি শুল্ক ও কারেন্সি যোগ করলে হয় ৫৫ থেকে ৫৬ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করেছে। এই মূহুতে দেশে উন্নয়ন প্রকল্প দিন দিন বাড়ছে। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এবং হচ্ছে। এই সময়ে রডের বাজারের অস্তিরতা কোনভাবে কাম্য নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। সরকার চায় উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে। এই অবস্থায় রডের মূল্য বাড়াতে সরকারের জন্য একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অযৌক্তিকভাবে রডের মূল্য বাড়ানো হলে ব্যবসায়ী কমিউনিটি তা মেনে নেবেনা। রডের দাম সহনীয় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, রডের মূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, রডের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে আমরা ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছি। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। যারা দাম বাড়িয়েছেন তাদের দাম বাড়ানোর পেছনে যৌক্তিকতা আছে কিনা তা দেখা হবে।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, রডের এই মূল্য অব্যহত থাকলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্থ হবে। হয় এই মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে নতুবা প্রকল্প রিভাইস করতে হবে। যা করতে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লেগে যাবে। এতে প্রকল্প ধীরগতির পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে।

এছাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের আবাসন খাত। তাই সরকারের উচিত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া এবং কি কারণের এর দাম বেড়েছে তা খতিয়ে দেখা বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here