যে কারণে দর হারাচ্ছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড

0
2204

হোসাইন আকমল : মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর চলছে ক্রান্তিকাল। ক্রমশ: দর কমছে। ৪১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮টির শেয়ারদর অভিহিত মূল্যের নিচে। যেন সমূদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে এসব শেয়ার। এমন পরিস্থিতির মাঝে টিকে থাকা হুমকির মুখে অনেকাংশেই।

দায়ী- এ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের শেয়ার নির্বাচনে অদক্ষতা, উর্ধ্বমুখী থাকা অবস্থায় বাজারে প্রবেশ, অতিমূল্যায়নে নিম্নমানের শেয়ার ধারণ, ফান্ডের পরিমাণ কম।

অভিহিত মূল্যের নিচে শেয়ারদর যেসব ফান্ডের- ট্রাস্ট ব্যাংক প্রথম, এসইবিএল প্রথম, রিলায়েন্স ওয়ান, পপুলার লাইফ প্রথম, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ, আইসিবি এএমসিএল তৃতীয় এনআরবি, এনএলআই প্রথম, আইএফআইএল প্রথম, আইএফআইসি প্রথম, আইসিবি সোনালী ব্যাংক প্রথম, আইসিবি এমসিএল দ্বিতীয়, আইসিবি দ্বিতীয় এনআরবি, প্রাইম ব্যাংক প্রথম, পিএইচপি প্রথম, ফিনিক্স ফাইন্যান্স প্রথম, এনসিসিবিএল, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম, এমবিএল প্রথম, গ্রিন ডেল্টা, ইবিএল এনআরবি, ডিবিএইচ প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইবিএল প্রথম, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ, এআইবিএল প্রথম ইসলামী, এবি ব্যাংক প্রথম, প্রথম জনতা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক প্রথম ও ফাস্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম।

এ খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় (অভিহিত মূল্যের নিচে) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পরিমাণ কম থাকাকে দায়ী করেন- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পরিমাণ অপ্রতুল। যে ফান্ডগুলো বিদ্যমান, -এর অধিকাংশই এসেছে বাজার উর্ধ্বমুখী থাকা অবস্থায়। ফলে উচ্চমূল্যে শেয়ার ধারণ করা হয়েছে ফান্ডগুলোয়।

ফারুক আহমদ বলেন, ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এ্যাসেট ম্যানেজমেন্টরা শেয়ার নির্বাচনে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি। এমন পরিস্থিতির উত্তরণে পুঁজিবাজারে দক্ষ ব্যবস্থাপক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নতুন নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড আনা যেতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন গবেষণা কর্মকর্তা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, পুঁজিবাজারের গভীরতা হিসেবে গণ্য করা হয় মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে। বাজারের শক্তি ও তারল্য পরিমাপ করা যায় এসব ফান্ডের মাধ্যমে। উন্নত বিশ্বের শেয়ারবাজারে বাজার মূলধনের ৪০ শতাংশই থাকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে। এক্ষেত্রে মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে মাত্র দু্‌ই শতাংশের মতো বাজার মূলধন রয়েছে বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, একদিকে দেশের শেয়ারবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সংখ্যা নগণ্য। অন্যদিকে সম্পদ নির্বাচনে ব্যবস্থাপনার (এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট) দায়িত্বরতদের  খুবই নিম্নমানের দক্ষতা এসব ফান্ডের দর পড়তে থাকার মূল কারণ। তারা নিম্নমানের শেয়ার কিনেছেন উচ্চদামে। এটা কেবল নতুন বিনিয়োগকারী বা অর্বাচিনদের মতো আচরণ।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে হ্যাক সিকিউরিটিজের রিপ্রেজেন্টেটিভ রুমি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের কোন প্রফিট দিতে পারছেনা মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো। এতে ধীরে ধীরে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে গেছে এ খাতের শেয়ারের প্রতি। যে কারণে ক্রমাগত শোচনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে শেয়ারদর।

এ্যাপেক্স সিকিউরিটিজের অথোরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ আনিস বলেন, যে পরিমাণে ফান্ড বিনিয়োগ করা দরকার, সে পরিমাণে করা হচ্ছেনা। এটা ফান্ড ম্যানেজমেন্টের একধরণের দুর্বলতা। আর তাই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর শেয়ারদর পতনমুখী।

হ্যাক সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী ডা. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিদেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে ফান্ডামেন্টাল আইটেম হিসেবে ধরা হয়। আমাদের দেশে নন-ফান্ডামেন্টাল। এতে ভরসা কমে যায়। পতনের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে শেয়ারগুলোকে ফান্ডামেন্টাল আইটেমে পরিণত করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিনিয়োগকারী আরিফ বলেন, ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার নেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোতে। যে কারণে অনেক শেয়ারহোল্ডার ধারণা করে থাকেন- মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করলে লোকসান হয় বা মুনাফা কম হয়। এমন পরিস্থিতির কারণেই দর হারাচ্ছে ফান্ডগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here