শ্যামল রায়ঃ শেয়ার ব্যবসায় শেয়ার নির্বাচন একটি অতিব গুরুত্বপূর্ন কাজ। কিন্তু এই কঠিন কাজটি ক্ষুদ্র বিনিয়গকারীরা করে থাকেন অতি সহজে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী কিংবা ডে-ট্রেডাররা হাউসে গিয়েই খোঁজ করতে থাকেন কোন শেয়ারটির দাম কমছে অথবা সবাই কোন শেয়ারটি কিনছেন।

মোঃ রেজাউল করিমও হিসাব নিকাশ না করেই কোন প্রকার টেকনিক্যাল এবং ফান্ডামেন্টাল এ্যানালাইসিস না করেই সবার মত শেয়ারটি কিনে নেন। ফলাফল দুইদিন পরেই পেয়ে যান। কেনার পর থেকে শেয়ারটির দাম আরও কমতে থাকে। কিন্তু এমনটাতো হবার কথা নয়। শেয়ার বাজারে এসেছেন লাভ করতে তাহলে কিভাবে চেনা যাবে একটি ভালো কোম্পানি কিংবা স্টক নির্বাচন করার সঠিক পদ্ধতিই বা কি? সম্প্রতি স্টক বাংলাদেশের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথাই জানালেন দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছেন এমন একজন বিনিয়গকারী মোঃ রেজাউল করিম।

আমি ১৮/২০ বছর ধরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছি। অন্য আর দশটা ব্যবসার মত শেয়ার বাজার অত সোজা নয়। এখানে বিনীয়োগের আগে প্রচুর গবেষনা অনেক পরিশ্রম এবং টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল এ্যানালাইসিস বিবেচনা করে তার পরে একটি স্টক কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

একটি কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল বিবেচনায় প্রথমেই খেয়াল করতে হবে কোম্পানিটির পরিচালনা পরষদে কারা আছেন। কোম্পানিটির আয় গত ৪/৫ বছরে ধারাবাহিকভাবে কিরকম বেড়েছে। কোম্পানির প্রডাকটির মার্কেটে চাহিদা কেমন? পিইরেশিও, আরএসআই, ন্যাভ কি রকম?

মনে রাখতে হবে আর এস আই ৭০ এর বেশি হলে ঐ কোম্পানির শেয়ার কেনা ঝুকিপূর্ণ। আবার পিইরেশিও ১৫ এর বেশি কেউ কেউ ২০ এর বেশি হলে সেই কোম্পানীটিতে বিনিয়োগ করেন না।

অনেক বিনিয়োগকারী ঝুকিমুক্ত থাকার জন্য বেশী বেশী শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু বিষয়টা একেক জনের কাছে এক এক রকম। যেমন ওয়ারেন বাফেট মনে করতেন, একটি ভালো কোম্পানি পেলে কেনো তাতে আপনি অল্প টাকা বিনিয়োগ করবেন। এই জন্যই বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে অধিকাংশ সময়ই ৫টি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করত। শুধুমাত্র ২০০৪ সালে বার্ক শায়ার হ্যাথাওয়ে ১০টি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিল। যা ছিলো তার কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক কোম্পানিতে বিনিয়োগ। তিনি আরও একটি বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলেন, যেমন একটি সফল কোম্পানির গ্রোস প্রফিট থাকে সাধারণত ৫০ এর উপর। কাজেই শেয়ার কেনার আগে এই বিষয়গুলো কঠিনভাবে অনুসরন করতে হবে।

সব সময়ই মার্কেটের সাথে গা না ভাসিয়ে যখন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী কোন একটি কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে তখনই লাভে ঐ কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে সম্ভাবনাময় যেসব কোম্পানির শেয়ার আন্ডার প্রাইসে রয়েছে তা কিনে রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here