যেসব কারনে মার্কেট প্রায় ১১% উপরে

7
4850

মোহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান : বেশ কিছুদিন আগে বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় , ডিএসই এক্স ইনডেক্স তার সাপোর্ট লেভেল ৪০০০ কে ভেঙ্গে নিচের দিকে যাচ্ছে। TA বিস্লেশকদের কাছে ‘RSI’ একটি জনপ্রিয় ইনডিকেটর। আজকের বাজার পতনের মধ্য দিয়ে ডিএসইএক্স ইনডেক্স এর ‘RSI’ নতুন রেকর্ড করলো, এর আগে ‘RSI’ এর সর্বনিম্ন মান ছিল ২১ পয়েন্ট। দিনশেষে ডিএসইএক্স ইনডেক্স এর ‘RSI’ মান এসে দাঁড়িয়েছে ১৬.৯৪ পয়েন্টে । ডিএসইএক্স ইনডেক্স এর ‘RSI’ ৩০ পয়েন্ট এর নিচে নেমেছিল এই পর্যন্ত মোট ৮ বার, তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে মার্কেট ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এই হিসাবে TA বিস্লেশকরা ধারনা করছেন মার্কেট যে কোন সময়ে ভালভাবে ঘুরে দাড়াতে পারে, এমন সব তথ্য বিনিয়োগকারীদের কছে আসতে থাকে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ডিএসই এক্স ইনডেক্স গত ৫ দিনেই বেড়ে যায় প্রায় ১১%।

কি ছিল সেই কারন এবং কেনোই বা প্রায় ১১% বেড়ে গেল এর প্রশ্নের জবার খুজচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। এছাড়াও বিশ্লেষক এবং বিনিয়োগকারীদের এখন মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বাজার কি ধরে রাখতে পারবে তার অবস্থান। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, বিগত কয়েকদিন যাবত সরকারের উদ্দ্যোগের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের কারনেই বাজারের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে যেসব কারনে বা উদ্দ্যোগ বাজারের পরিবর্তন দেখা গিয়েছে তা দেখে নেয়া যাক।

গত ৫ই মে ডিএসই এক্স ইনডেক্স ৮৭ পয়েন্ট পড়ার সাথে সাথে  বাজার ভালো করার নির্দেশ আসে বিএসইসির পক্ষ হতে। দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিয়ত তাদের পুঁজি হারাচ্ছেন। পুঁজিবাজারে দরপতনের মুখে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় র্শীর্ষ ২০ ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সাথে জরুরী বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্কে বাজার ভালো করার নির্দেশ বিএসইসির

এর পর ৬ ই মে ‘স্টান্ডার্ড’ হচ্ছে সার্কিট ব্রেকার হচ্ছে এই মর্মে ঘোশনা আসে। ওইদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচারক ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, একটি কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণার পরে এক দিন ওই শেয়ারের সার্কিট ব্রেকার থাকে না। আবার তালিকাভুক্ত হয়ে কোন কোম্পানি লেনদেন আসলে প্রথম পাঁচ দিন সার্কিট ব্রেকার থাকে না। তাই এই পদ্ধতিটিকে একটি স্টান্ডার্ড পর্যায়ে আনার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জকে (বিএসইসি) প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্কে ‘স্টান্ডার্ড’ হচ্ছে সার্কিট ব্রেকার

একই দিনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৪২তম কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ২ দিন সার্কিট ব্রেকার নেই।পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিগুলো ৫ দিন সার্কিট ব্রেকার ছাড়া লেনদেন করতো। এখন থেকে নতুন কোম্পানিগুলো ২ দিন সার্কিট ব্রেকার ছাড়া লেনদেন করবে। অর্থাৎ নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে এ নির্দেশ কার্যকর হবে।বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে পূর্ববর্তী লেনদেন দিবসের শেয়ার মূল্যের উপর শতকরা হারে এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি মূল্য কমা বা বাড়া হবে না। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে কোনো একটি শেয়ার মূল্যের কমা বাড়া সংক্রান্ত সার্কিট ব্রেকার শুধু মাত্র শতকরা হারে হবে।

বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্কে ২ দিন সার্কিট ব্রেকার নেই

এছাড়াও শেয়ারবাজারে নজর দিন: কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাণিজ্যমন্ত্রী এরকম খবর আসে। বাংলাদেশ ব্যাংককে দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে যখন ব্যাংকের দশ শতাংশ বিনিয়োগের সুযোগ ছিলো, তখন ব্যাংকগুলো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। ওই সময় ব্যাংকগুলো প্রচুর পরিমাণ মুনাফা করে শেয়ার বাজার থেকে। এই মুনাফা দেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আসে। এখন তারা নিঃস্ব। আপনারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) বিষয়টিতে নজর দেন।

এরপর ৭ই মে, বাজারের জন্য একটি গুড নিউজ প্রকাশ পায়। বাজার চাঙ্গায় বিদেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা হবে : জয় এমন তথ্য আসে বাজারে। আইটি কোম্পানিগুলো ফরেন মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত করা হবে। বিদেশী কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ উভয় লাভবান হবে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজার আরও চাঙ্গা হবে।

বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্কে বাজার চাঙ্গায় বিদেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা হবে : জয়

এখানেই শেষ নয়, বাজারকে বেগমান করতে সরকার কিছু সিধান্ত খুব তাড়াতাড়ি নেয়। গত ৯ই মে, সঞ্চয়পত্রে বিদ্যমান সুদের হার কমিয়ে নিয়ে আসা হতে পারে। ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিদ্যমান ১৩ শতাংশ সুদের হার কমিয়ে আনা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান কর ব্যবস্থায়ও অনেকগুলো পরিবরর্তন আসবে। এমনটাই আভাস দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল অাবদুল মুহিত।

বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্কে  কমছে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার

আর সর্বশেষ ১১ই মে খবর আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে। পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের গড় ক্রয়মূল্য (সিপি) যদি তার বাজার মূল্যের (এমভি) কম বা সমান হয় অথবা চলতি বাজার মূল্যে নির্ণীত নিট সম্পদ মূল্যের (এনএভি) ৮৫ শতাংশের কম বা সমান হয় তাহলে এই দুই ক্ষেত্রে ধারণকৃত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্কে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ ছাড় মিউচ্যুয়াল ফান্ডে

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন পুঁজিবাজারের সাথে জড়িত সকল মহল যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে পুঁজিবাজার ফিরে পাবে তার হারান গতি।আর এর ফলে সকল বিনিয়গকারী তথা পুঁজিবাজারের সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান একযোগে দেশকে উন্নিত দিকে নিয়ে যেতে পারবে।

7 COMMENTS

  1. All are very good and positive news for share market. I think the market will reach at the highest level of its index. In the meantime, a huge number of small investors have been loosing their money for a long time. These are all bangladeshi and are passing very painful days. So, government should have to give special care in this sector to save the investors/pupil. As I can remember, once prime minister said that the index should be more than 6000.

  2. But why market became so much down? Main cause? Is it the adjustment of investment needed by all Bank within 2016? Was there any solution of it?
    Why market was up in 2014? Is it only gov, ICB and state owned Bank who boosted the Market at the end of 2013 on the occasion of Election? And now are they outside the market?

    Then who will pull up the market? Only few NBFI? I believe that market is ever lucrative now. But who will lead?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here