যমুনা-মেঘনার সুদে আয় বেশি, পরিচালন মুনাফা কম

0
1093
স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর বিক্রি কমছে। পণ্যের বিক্রি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিচালন মুনাফা করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে পণ্যের বিক্রি কমে গিয়ে পরিচালন মুনাফা কমছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে। সব মিলিয়ে এসব কোম্পানি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এখন বিক্রির চেয়ে অনেক কোম্পানির সুদ বাবদ আয় বেশি। ব্যাংকে গচ্ছিত স্থায়ী আমানতের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয়ে চলছে এসব কোম্পানি, বিশেষ করে যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। গেল প্রান্তিকে যমুনা অয়েলের পণ্য বিক্রি আমানতের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের এক-চতুর্থাংশেরও নিচে নেমে এসেছে।

সরকারের তালিকাভুক্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর‍্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে যমুনা অয়েলের পণ্য বিক্রি থেকে যে টার্নওভার হয়েছে, তার চার গুণেরও বেশি ছিল সুদ বাবদ আয়।

এ সময়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ক্ষেত্রেও বিক্রির তুলনায় সুদ বাবদ আয় ১১৮ শতাংশ বেশি ছিল। পণ্য বিক্রির চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এর মধ্যে পরিচালন লোকসানে পড়েছে যমুনা অয়েল। আর বিক্রি কমলেও পরিচালন মুনাফায় রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও পদ্মা অয়েল। অবশ্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে পদ্মা অয়েলের সুদ বাবদ আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কমেছে।

যমুনা অয়েলের বিগত বছরগুলোর প্রান্তিক প্রতিবেদন পর‍্যালোচনায় দেখা যায়, চার বছরের ব্যবধানে যমুনা অয়েলের পণ্য বিক্রি এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। ২০১১-১২ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৭ কোটি টাকা কম। বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি পরিচালন লোকসানে পড়েছে।

এদিকে চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকে গচ্ছিত স্থায়ী আমানত থেকে যমুনা অয়েলের সুদ বাবদ আয় হয়েছে ৫২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা কোম্পানির টার্নওভারের তুলনায় চার গুণেরও বেশি। মূলত সুদ বাবদ আয়ের কারণেই গেল প্রান্তিকে শেষ পর্যন্ত মুনাফা দেখাতে পেরেছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি।

অন্যান্য পরিচালন আয়সহ চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে যমুনা অয়েলের নিট টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির প্রশাসনিক, বিতরণ, ঋণের সুদ ও অবচয় খাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিচালন লোকসান হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

তবে আমানতের সুদ বাবদ আয় যোগ হওয়ায় যমুনা অয়েলের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। চলতি অর্ধবার্ষিকীতে এ কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১৭ কোটি টাকা। চলতি অর্ধবার্ষিকীতে সুদ বাবদ আয় হয়েছে ১০৯ কোটি টাকা।

কমবেশি একই অবস্থা মেঘনা পেট্রোলিয়ামেরও। কোম্পানিটি চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি করছে, এর চেয়ে বেশি আয় এসেছে স্থায়ী আমানতের বিপরীতে প্রাপ্ত সুদ থেকে। অবশ্য আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পণ্য বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য পরিচালন আয় দ্বিগুণ হয়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম পরিচালন মুনাফায় থাকলেও সুদ বাবদ আয়ই প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফার প্রধান উত্স হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও আগের বছরের চেয়ে এ কোম্পানির সুদ বাবদ আয় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।

২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেঘনা পেট্রোলিয়াম ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি। অন্যান্য পরিচালন আয় হিসাবে নিলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির টার্নওভার ছিল ৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রশাসনিক, বিক্রয় ও সুদ বাবদ ব্যয়ের পর গেল প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা ছিল ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এ সময়ে সুদ বাবদ আয় হয়েছে ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এতে কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

এদিকে সুদ আয়ে উল্টো চিত্র দেখা গেছে, সরকারের আরেক তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েলের ক্ষেত্রে। গত দুই বছর ধরেই কোম্পানিটির সুদ আয় কমতে দেখা যাচ্ছে। পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন না হলেও সুদ বাবদ আয় কমে যাওয়ায় পদ্মা অয়েলে সার্বিক মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

২০১৩-১৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে এ কোম্পানির সুদ বাবদ আয় ছিল ১০৪ কোটি টাকা। এর পর তা ধারাবাহিকভাবে কমে গেল অর্ধবার্ষিকীতে ৬৭ কোটি টাকায় ঠেকেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ আয়ের পরিমাণ আরো কমেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে পদ্মা অয়েলের অন্যান্য অপরিচালন মুনাফা ও সুদ বাবদ আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here