যমুনা ওয়েলের শেয়ারে বিনিয়োগ ২৭ কোটি টাকা, এক-পঞ্চমাংশ উধাও!

0
1435

চট্টগ্রাম ব্যুরো : যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক-কল্যাণ অংশীদারত্ব তহবিলের ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা গত বছরের জুনে বিনিয়োগ করা হয় শেয়ারবাজারে। শেয়ারের দর কমায় সেই বিনিয়োগের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ টাকা হাওয়া হয়ে গেছে।

শ্রমিক-কল্যাণ অংশীদারত্ব তহবিলের বিপুল অঙ্কের ক্ষতির কারণ খতিয়ে দেখতে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। কমিটি চলতি সপ্তাহে তদন্তকাজও শুরু করেছে।

যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস বিপণনের চারটি কোম্পানির শেয়ার কেনা হয় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক-কল্যাণ অংশীদারত্ব তহবিলের টাকা দিয়ে। বেশি লাভের আশায় এসব শেয়ার কেনা হয়। গত বছর শেয়ারবাজার পড়তির দিকে ছিল।

জুন মাসে শেয়ার কেনার পর তা আরও অনেক কমে যায়। ফলে ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা শেয়ারের দর ২১-২২ কোটি টাকায় নেমে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই বিনিয়োগের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গত ৫ জানুয়ারি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।

কোম্পানি সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (আবাসিক) আইয়ুব হোসেনকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপমহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) নাজমুল হক ও উপমহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষণ) খসরু আজাদ। তাঁদের ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানির শ্রম আইনের ২৪০ ধারার ১১ উপধারায় বলা আছে, ‘আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড সার্টিফিকেট, আইসিবি ইউনিট সার্টিফিকেট, প্রতিরক্ষা এবং ডাক সঞ্চয়পত্রসহ সরকারি ঋণপত্র এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কোনো ঋণপত্রে বিনিয়োগ করা যাবে।’

৩ উপধারায় আরও বলা হয়, ‘কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার কাজে নিয়োজিত অংশগ্রহণ তহবিলের কোনো অর্থের ওপর, কোম্পানির ব্যাংক হারের আড়াই শতাংশ অধিক হারে অথবা এর সাধারণ শেয়ারের জন্য ঘোষিত মুনাফার হারের ৭৫ শতাংশ, যা অধিক হবে, সুদ প্রদান করবে।’ শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে শ্রম আইন বা বিধিতে কিছুই বলা হয়নি। অথচ কোম্পানির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা আইন লঙ্ঘন করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করেছেন।

তদন্তকাজ শুরু করার কথা জানিয়ে আইয়ুব হোসেন বলেন, শেয়ারবাজারে তহবিলের টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে এবং কত টাকা ক্ষতি হয়ে গেল, তা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছি। এখনো আমরা অনেক নথিপত্র হাতে পাইনি। সবকিছু হাতে পাওয়ার পর আমরা একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারব।

যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড সূত্র জানায়, কোম্পানির শ্রমিক-কল্যাণ অংশীদারত্ব তহবিল পরিচালনার জন্য চার সদস্যের ট্রাস্টি রয়েছে। ট্রাস্টির প্রধান কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) হাবিবুল মুহিত। অন্য তিন সদস্য হলেন কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাসুদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহকারী কাজী মো. ফিরোজ উদ্দিন ও সহকারী মো. সেকান্দর।

শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের কারণ জানতে চাইলে ট্রাস্টির প্রধান ও উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) হাবিবুল মুহিত বলেন, বেশি লাভের আশায় আমরা ২৭ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছি। বেশি লাভ হলে কোম্পানির কর্মীরা উপকৃত হতো। এখন দেখছি, শেয়ারের দর কিছুটা কমে গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল মুহিত বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি তেল ও গ্যাস বিপণন কোম্পানির শেয়ার আমরা কিনেছি। ধীরে ধীরে শেয়ারের দাম বাড়ছে। তবে এ মুহূর্তে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। তবে শেয়ারবাজারে ব্যবসা নয়, লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় বিনিয়োগ করেছি।

সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, শ্রমিক-কল্যাণ অংশীদারত্ব তহবিলের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে। সেই বিনিয়োগের কিছু অংশ অনাদায়যোগ্য হয়ে গেছে। তহবিলের টাকা কেন ক্ষতি হলো, তা বের করে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here