ম্যারিকোর আয় বৃদ্ধি, তেলের বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা

0
736

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে নারকেল তেলের বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা করছে মুম্বাইভিত্তিক এফএমসিজি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট রাজস্বের ৬৯ শতাংশই আসে প্যারাস্যুট ব্র্যান্ডের নারকেল তেল থেকে। তাছাড়া ২৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ রাজস্ব আসে বিভিন্ন ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড হেয়ার অয়েল থেকে।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, ম্যারিকো বাংলাদেশের রাজস্বের বড় অংশই আসে নারকেল তেল, ভ্যালু অ্যাডেড হেয়ার অয়েল ও ভোজ্যতেল থেকে। এর মধ্যে আবার প্যারাস্যুট ব্র্যান্ডের নারকেল তেল থেকেই সবচেয়ে বেশি আসে। বর্তমানে দেশের নারকেল তেলের বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড প্যারাস্যুট। ক্রেতাদের পছন্দ ও অভিরুচিকে প্রাধান্য দিয়ে তারা বিদ্যমান পণ্যের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি বেশকিছু নতুন পণ্যও বাজারে এনেছে।

ম্যারিকো বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৮৭৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে; যা এর আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। তাছাড়া আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

গেল বছর প্যারাস্যুট ব্র্যান্ডের কোকোনাট অয়েল বিক্রি করে কোম্পানিটির ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে, যা এর আগের বছরে ছিল ৫৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির বিক্রি বেড়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। কোকোনাট অয়েলের পর সবচেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে বিভিন্ন ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড হেয়ার অয়েল থেকে। এ খাতে গত বছর কোম্পানিটির রাজস্ব এসেছে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ১৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ভ্যালু অ্যাডেড হেয়ার অয়েলের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

এছাড়া ম্যারিকো বাংলাদেশের রাজস্বের ১ দশমিক ২২ শতাংশ আসে ভোজ্যতেল ব্র্যান্ড সাফোলা থেকে। গত বছর কোম্পানিটি ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকার ভোজ্যতেল বিক্রি করেছে, এর আগের বছরে যা ছিল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ভোজ্যতেলের বিক্রি বেড়েছে ১০৮ শতাংশ। এর বাইরে গত বছর ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার কালার, ৫ কোটি ১০ লাখ টাকার প্যারাস্যুট বডি লোশন ও ৪০ কোটি ৭০ লাখ টাকার অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেছে ম্যারিকো বাংলাদেশ।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরে ম্যারিকো বাংলাদেশের কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২০২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা এর আগের বছর ছিল ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ।

গত বছর বাজারে বেশকিছু নতুন পণ্য এনেছে ম্যারিকো বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড অ্যালোভেরা, নিহার ন্যাচারাল এনরিচড কোকোনাট হেয়ার অয়েল, প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড পেট্রোলিয়াম জেলি, সেটওয়েট নো গ্যাস ডিও, সেটওয়েট শ্যাচেট হেয়ার অয়েল, এক্স-মেন ডিওডোরেন্ট ও প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি।

৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরে ম্যারিকো বাংলাদেশ শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ আকারে বিতরণ করা হয়। বাকি ৫০ শতাংশ দেয়া হয় চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ আকারে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৬৪ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছর যা ছিল ৫২ টাকা ১৫ পয়সা। ৩১ মার্চ এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪১ টাকা ৩৪ পয়সা, এক বছর আগে যা ছিল ৪৭ টাকা ৩৮ পয়সা।

২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য মোট ৬০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় ম্যারিকো। এছাড়া ২০১৭ হিসাব বছরে ৫০০ শতাংশ ও ২০১৬ হিসাব বছরে ৪৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৬ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এ হিসাবে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ৯ টাকা ৩৩ পয়সা বা ৫২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা। ম্যারিকো বাংলাদেশ চলতি হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ১ এপ্রিল শুরু হওয়া কোম্পানির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি গাজীপুরের মৌচাক ও শিরিরচালায় অবস্থিত দুটি কারখানার সক্ষমতা বাড়াতে ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোম্পানিটির পর্ষদে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়টিতে অনুমোদন দেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার ম্যারিকো বাংলাদেশ শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ১ হাজার ৭৯৪ টাকা ৯০ পয়সা। এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৯৫ টাকা ও ১ হাজার ৮২৭ টাকা ৯০ পয়সা।

ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে। ২০০৯ সালে এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৪০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে এর পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৯২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৭৯ ও বাকি দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩৪ দশমিক ৩৩, অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১৬ দশমিক ৬১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here