মোটরসাইকেল সংযোজনের পরে ফ্যান উৎপাদনেও যাচ্ছে এটলাস বাংলাদেশ

0
361

সিনিয়র রিপোর্টার : নিজস্ব ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক ফ্যান উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রকৌশল কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড। এটলাস ব্র্যান্ড নামে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্যান বাজারজাত করা যাবে। একইসঙ্গে মোটরসাইকেল সংযোজনও করবে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি টিভিএসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের চুক্তিও করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে সরকারি ও কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)। এটি হলে প্রাথমিক অবস্থায়ই ৪-৫ কোটি টাকা মুনাফা যোগ হবে বলে আশা করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মূল পরিচালন কার্যক্রম মোটরসাইকেল বিক্রিতেও জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এটলাস বাংলাদেশের থ্রি-এস (সেলস, সার্ভিসিং ও স্পেয়ার্স) সেন্টার উদ্বোধন ও টঙ্গীর কারখানা পরিদর্শন করে বৃহস্পতিবার নতুন প্রকল্পের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, বিএসইসির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান ও এটলাস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ ন ম কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এটলাস বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মোটরসাইকেল সংযোজনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ফ্যান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিজস্ব কারখানায় কিছু যন্ত্রাংশ সংযোজন করে পুরনো মিল্লাত ফ্যানের অনুরূপ এ ফ্যান তৈরি করা হবে।

এটলাস ব্র্যান্ড নামে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ ফ্যান বাজারজাত করা যাবে। প্রাথমিকভাবে বার্ষিক এক লাখের কিছু বেশি ফ্যান তৈরি করতে কোম্পানিটিকে ১৫-১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এতে বছর শেষে মুনাফায় অতিরিক্ত ৪-৫ কোটি টাকা যোগ করতে পারবে এটলাস বাংলাদেশ। প্রকল্পের জন্য একটি ডিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট) তৈরি করে শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রয়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্জাগরণের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এটলাসের নতুন প্রকল্প নিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, মিল্লাত ফ্যানের অনুরূপ ফ্যান তৈরির প্রস্তাব একটি সৃজনশীল উদ্যোগ। বর্তমান সরকার এ ধরনের পণ্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট। ২০২১ সালের মধ্যে এটি ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। ফলে দিন দিন বৈদ্যুতিক ফ্যানের চাহিদা বাড়ছে। এটলাসের নিজস্ব ব্র্যান্ডে ফ্যান তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে।

এটলাস মোটরসাইকেলের থ্রি-এস সেন্টার উদ্বোধন করে আমির হোসেন আমু আরো বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মান বেসরকারি খাতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ করতে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এটলাসের ‘থ্রি-এস’ সেন্টার এ কাজের একটি অংশ।

প্রায় ২ হাজার ২৫৬ বর্গফুট জায়গার ওপর তেজগাঁওয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে এ সার্ভিস সেন্টার। সার্ভিস সেন্টারের পাশাপাশি তা এটলাসের ‘শোরুম’ হিসেবেও ব্যবহূত হবে। এখানে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস বিক্রি হবে। এটলাস গ্রাহক ছাড়া অন্য কোম্পানির মোটরবাইকের জন্যও এ সার্ভিসিং সেবার দুয়ার উন্মুক্ত থাকবে। ফলে এ সেন্টার এটলাস বাংলাদেশের জন্য আয়ের একটি নতুন উৎস হিসেবে অবদান রাখবে বলে মনে করছেন কোম্পানি কর্মকর্তারা।

এটলাস বাংলাদেশের এমডি আ ন ম কামরুল ইসলাম বলেন, দেশে বৈদ্যুতিক ফ্যানের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়েই পুনরায় তা উৎপাদন করার পরিকল্পনা নিয়েছে এটলাস বাংলাদেশ। এর আগে মিল্লাত ফ্যান নামে উৎপাদন হলেও এখন এটলাস নামেই বাজারে আসবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্যানটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ফ্যান সরবরাহ করলেই এক লাখ ইউনিটের বেশি বিক্রি করে বছরে ৪-৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম মোটরসাইকেল সংযোজন কারখানা এটলাস ভারতীয় হিরো-হোন্ডা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সংযোজন ও বাজারজাত করে আসছিল। তবে ভারতে দুই ব্র্যান্ড আলাদা হয়ে যাওয়ার পর কোনোটির সঙ্গেই ব্যবসা ধরে রাখতে পারেনি তারা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তাদের রাজস্ব ও মুনাফায় এর প্রভাব দেখা যায়।

স্টক এক্সচেঞ্জে এটলাসের শেয়ারদরও অনেক কমে যায়। একপর্যায়ে চীনের অন্যতম ব্র্যান্ড জংশেনের মোটরসাইকেল সংযোজন শুরু করলেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে তা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেনি। দুই বছর ধরে বছর শেষে লোকসান দেখাচ্ছে এক সময়ের ব্লু-চিপ কোম্পানিটি। তবে সম্প্রতি টিভিএসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের চুক্তি করেছে কোম্পানিটি, যার আওতায় নিজেদের সংরক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতার বাজারে একটি ভালো অবস্থান করে নেয়ার আশা করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here