মেয়াদ বাড়ছে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের

0
636

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সহায়তার উদ্দেশ্যে গঠিত তহবিলের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তাছাড়া প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত ২০ শতাংশ কোটার মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করারও প্রস্তাব রেখেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

কমিশন সূত্রে আরো জানা গেছে, বিশেষ তহবিলের ঋণের সুদ সাড়ে ৭ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে তহবিল থেকে দ্বিতীয় ঋণ দেয়ার সুযোগ রাখারও প্রস্তাব করেছে কমিশন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেয়া চিঠিতে প্রস্তাবের সপক্ষে কমিশন তাদের যুক্তিও তুলে ধরেছে। সেখানে বিএসইসি বলে, তহবিলের আওতায় বিনিয়োগকারীদের আরো বেশি সুবিধা প্রদান, অবণ্টিত অর্থ বণ্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্যই তহবিলের মেয়াদ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আইপিও কোটার মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা দরকার।

সুদহার কমানোর প্রস্তাবে বিএসইসি বলে, ব্যাংকঋণের সুদের হার কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে তহবিলের সুদহারও আকর্ষণীয় করতে হবে। এ কারণে তা বর্তমান সাড়ে ৭ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার পক্ষে কমিশন। এর মধ্যে তহবিল পাবে ৪ শতাংশ, আইসিবির সার্ভিস চার্জ ১ শতাংশ এবং বাকি ১ শতাংশ সুদ পাবে প্রত্যক্ষভাবে বিনিয়োগকারীদের ঋণ প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ।

এছাড়া তহবিলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং আরো বেশি সংখ্যক বিনিয়োগকারীকে এ তহবিলের আওতায় আনতে যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকার এরই মধ্যে তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে যথাসময়ে ফেরত দিয়েছে, তাদেরকে দ্বিতীয় মেয়াদে ঋণ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, তহবিলের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া তহবিলের সুদের হার হ্রাস, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটার মেয়াদ বাড়ানো এবং দ্বিতীয় মেয়াদে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা দেয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিএসইসি এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তা ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুদের হার ৯ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর পরও তহবিল থেকে ঋণ বিতরণে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here