মেজর মান্নানের ঘনিষ্ঠজনদের নামের তালিকা চেয়ে চিঠি

0
573

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) এম এ মান্নানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনদের নামের তালিকা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তার নিজের ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫১৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

যে কারণে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে থাকা শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আর সংশ্লিষ্টদের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। গত ২১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দপ্তরে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠায় বিএসইসি।

২৬ ফেব্রুয়ারি পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, মেজর (অব.) এম এ মান্নানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনদের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে কমিশন কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নামের তালিকা বিশেষভাবে প্রয়োজন। এজন্য তিনি এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনদের নামের তালিকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, মেজর (অব.) এম এ মান্নানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনদের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হলে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনদের পরিচয় জানতে হবে। তাই আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের নামের তালিকা পাঠাতে বলেছি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিআইএফসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) এম এ মান্নান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনদের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠায় দুদক।

দুদকের সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিআইএফসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) এম এ মান্নান ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি থেকে তার নিজের ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫১৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানটির মূলধনের ৬০ শতাংশের বেশি।

দুদক বিষয়টির অনুসন্ধান শুরু করার পর মেজর (অব.) এমএ মান্নান সব ঋণের দায় স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে অঙ্গীকারপত্র দেন। ১১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধও করেন। বর্তমানে সুদ ছাড়া মেজর (অব.) এম এ মান্নানের কাছে বিআইএফসির পাওনার পরিমাণ ৩৯৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

তিনি বিআইএফসির অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করেননি। তাই ঋণের টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত মেজর (অব.) এম এ মান্নান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ঠজনের নামে থাকা শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন বলে মনে করে দুদক।

দুদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিএসইসির প্রাধিকারভুক্ত হওয়ার কারণে এ বিষয়ে আপনাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here