ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফেরার সম্ভাবনা ৫টি কোম্পানির

0
2301

সিনিয়র রিপোর্টার : নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পালন না করায় ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে রয়েছে ৬৬টি কোম্পানি। বিভ্ন্নি প্রক্রিয়ার এসব কোম্পানির কিছু শেয়ার লেনদেন হয়। অন্যদিকে কিছু কোম্পানি রয়েছে ওটিসিতে হস্তান্তরের পরে কখনো শেয়ার লেনদেন হয়নি।

তবে কিছু কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হওয়ায় এবং কোম্পানির কর্তৃপক্ষ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন শর্ত পারিপালন করায় ৫টি কোম্পানির মূল মার্কেটে ফেরার সম্ভাবনা অনেক। তবে ওটিসির ৬৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টি শর্তপূরণের তালিকায় অনেক দূর এগিয়ে। এসব কোম্পানির অধিকাংশ কাগজের শেয়ার ইলেকট্রনিক শেয়ারে রুপান্তর অর্থাৎ ডিমেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা কোম্পানিগুলো হল- আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজ , আলফা টোব্যাকো, এ্যাপেক্স উইভিং, ঢাকা ফিশারিজ, হিমাদ্রী লিমিটেড, লেক্সকো লিমিটেড, মুন্নু ফেব্রিক্স, নিলয় সিমেন্ট, পেপার প্রসেসিং, রহমান কেমিক্যালস, সোনালি পেপার, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস এবং বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার।

ধারণা করা হচ্ছে- এসব কোম্পানি ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরে আসার জন্যেই তাদের শেয়ার ডিমেট সম্পন্ন করেছে। এরমধ্যে দুটি কোম্পানি বেশ ভালো লভাংশ ঘোষণা করেছে। তা হলো- বিডি হোটেলস ও সোনালী পেপার মিলস কোম্পানি লিমিটেড।

বিডি হোটেলস : ১৮ মাসের জন্য (১ জানুয়ারি’১৫-জুন’১৬) ৭১ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসের জন্য ২৮ শতাংশ ক্যাশ (২০ শতাংশ সাধারণ ও ৮ শতাংশ প্রেফারেন্স শেয়ারহোল্ডার) ডিভিডেন্ডের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ অর্থাৎ ১২ মাসের জন্য ৪৩ শতাংশ  নগদ (৩৫ শতাংশ সাধারণ ও ৮ শতাংশ প্রেফারেন্স শেয়ারহোল্ডার) ডিভিডেন্ড দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১ টায় কোম্পানির রেজিষ্টার্ড অফিসে এবং কোম্পানির বুক ক্লোজার বা রেকর্ড ডেট ৪ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিডি হোটেলসের ১২ মাসের ৪৩ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড অন্তবর্তীকালীন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তা আগামী ২৭ ডিসেম্বরের আগেই বিনিয়োগকারীদের প্রদান করা হবে।

সোনালী পেপার মিলস : ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৬৭ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৩৬১.৬৭ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ০.১০ টাকা।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১ টায় ট্রাস্ট মিলনায়তন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে এবং রেকর্ড ডেট ২৮ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালিকায় আরো রয়েছে- আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজ, নিলয় সিমেন্ট ও তমিজউদ্দিন টেক্সটইল। এসব কোম্পানি কয়েক বছর ধরে নিয়মিত লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। আরো কিছু কোম্পানি রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন সম্ভাবনার মধ্যে দিয়ে পথ এগিয়ে যাচ্ছে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- হিমাদ্রী লিমিটেড টানা ৬ বছর ১২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়ে ২০১৫ সালে নো ডিভিডেন্ড দেয়। পেপার প্রসেসিং টানা ১০ বছর পর ২০১৩ সালে ১০ শতাংশ ক্যাশ এবং ২০১৪ সালে ১২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেয়, এরপর ২০১৫ সালে কোন ডিভিডেন্ড দেয়নি।

বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার টানা ১০ বছর কোন ডিভিডেন্ড না দিয়ে ২০১৪ সালে ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেয় এবং ২০১৫ সালে কোন ডিভিডেন্ড দেয়নি।

এর আগে, ২০১৩ সালের প্রথম দিকে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ওটিসি মার্কেটের কোম্পানিগুলোর গতি ফেরানোর উদ্যোগ নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ৪ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।

গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন- তৎকালীন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ (আহ্বায়ক), নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিক্কুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম এবং পরিচালক মাহাবুবুল আলম (সদস্য সচিব)।

তখন কমিটি খসড়া তালিকাসহ ওটিসির উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনে জমা দেয়। যেখানে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই ও সিএসইর পক্ষ থেকেও মতামত নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে বিএসইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলেই।

পেছনের খবর : ওটিসির ২টি কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here