মূল মার্কেটে ফিরছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ

0
1466

ডেস্ক রিপোর্ট : আট বছর ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটে (ওটিসি) থাকার পর এবার মূল বাজারে ফিরছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। মূল বাজারে ফেরার জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব শর্ত এরই মধ্যে পরিপালন করেছে কোম্পানিটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনাপত্তি পাওয়ার পর সর্বশেষ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকেও মূল বাজারে ফেরার অনুমোদন পেয়েছে কোম্পানিটি। ১১ ডিসেম্বর পর্ষদ সভায় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজকে পুনঃতালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়া হয় বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করায় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজকে ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরে আসার অনুমোদন দিয়েছে ডিএসই। কোম্পানির পক্ষ থেকে লেনদেন শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে ডিএসই।

দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা ও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারাসহ নানা অনিয়মের কারণে ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৫১টি কোম্পানিকে নিয়ে ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর ওটিসি মার্কেট চালু করে ডিএসই।

পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর আরো ২৯টি কোম্পানিকে ওটিসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনের প্রতিবেদন জমা দেয়ায় ২০১১ সালের জুনে ১০টি ও পরবর্তীতে আরো দুটি কোম্পানিকে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে ওটিসি থেকে মূল বাজারে আসা ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের পর এবার মূল বাজারে আসছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। অবশ্য নাম পরিবর্তনের আগে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ সজিব নিটওয়্যার নামে পরিচিত ছিল। ২০০৯ সালে সজিব নিটওয়্যার মূল বাজার থেকে ওটিসিতে চলে যায়। ওটিসিতে যাওয়ার এক বছর পরেই ২০১০ সালে আলিফ গ্রুপ সজিব নিটওয়্যারের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে কোম্পানিটির মালিকানায় আসে। এরই ধারাবাহিকতায় সজিব নিটওয়্যার আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজে পরিণত হয়।

দেশের বস্ত্র, তৈরি পোশাক, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান, আবাসন, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ রয়েছে আলিফ গ্রুপের। এরই মধ্যে গ্রুপটি মূল বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিএমসি কামাল টেক্সটাইলস মিলসকেও কিনে নিয়েছে। আলিফ গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ব্যবসায়ী মো. আজিজুল ইসলাম। তাছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তার ছেলে মো. আজিমুল ইসলাম।

সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ স্টক ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৩৭ পয়সা, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ২৪ টাকা ১৪ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদপ্রবাহ (এনওসিএফএস) ১ টাকা ২৩ পয়সায় দাঁড়ায়। কোম্পানিটি ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরে ৩১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল।

১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির ৩ কোটি ৭৭ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে বর্তমান পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার। এর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৩৩ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ওটিসিতে সর্বশেষ ১২৫ টাকায় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here