ঋণ প্রবৃদ্ধির লাগাম টানতে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা মঙ্গলবার

0
1045

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। মূল্যস্ফীতির ওপর জোর দেয়া এবারো মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্যই থাকছে। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স এন্ড পাবলিকেশন্সের মহাব্যবস্থাপক সাঈদা খানম এ তথ্য জানান।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৮) জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি সংবলিত ও মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট’ প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানা গেছে, এবার যেহেতু বাজেটে সঞ্চয়পত্রের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে সরকারি খাতের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে, সেহেতু বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লাগাম টানতেই হবে। তবে নির্বাচনের বছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার যেখানে ঋণের সুদহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমিয়ে আনাটা সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলেও মনে করছেন তারা।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আসবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি। বিদায়ী অর্থবছরে মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ছিল ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা।

কিন্তু ওই অর্থবছরে ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে (মূলত সঞ্চয়পত্র থেকে) বেশি ঋণ আসায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে লক্ষ্য অনুযায়ী ঋণ নিতে হয়নি সরকারকে। যে কারণে সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্য কমিয়ে হয় ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য কমিয়ে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্রসহ জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ”এমন সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করছে, যখন ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়বে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক টাকার চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক বা কালো টাকার প্রবাহ বেশি হবে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। এতেও মূল্যস্ফীতি চাপে পড়বে।”
গত অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি প্রণয়নের সময় বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.১ শতাংশ। ওই সময় মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ১৬.৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেয়া হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কিছুটা করে কমিয়ে আনে।

ঋণের প্রবৃদ্ধি কাক্সিক্ষত মাত্রায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ওই নির্দেশনা দেয়া হলেও ব্যাংকগুলো সেটা বাস্তবায়ন করতে আমানত বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামে। ফলে মুদ্রানীতি ঘোষণার পরের মাস ফেব্রুয়ারি থেকেই আমানতের সুদহার ৫-৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১-১২ শতাংশে পৌঁছে যায়। এ নিয়ে শুরু হয় নতুন সংকট।

ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহারও বেড়ে ১৮-১৯ শতাংশে পৌঁছে যায় অল্প সময়ের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মার্চে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট বা এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সব শেষে গত ১ জুলাই থেকে বেশির ভাগ ব্যাংকই এক অঙ্কের সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতির কৌশল নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here