মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স (MACD)

0
1426

টেকনিক্যাল এনালাইসিসে এমএসিডি বহুল ব্যবহৃত এবং অন্যতম ইন্ডিকেটর হিসেবে পরিচিত। ৭০ এর দশকে Gerald Apple এই এমএসিডি আবিষ্কার করেন। এমএসিডি হচ্ছে খুব সাধারন ও ফলপ্রূস একটি ইন্ডিকেটর। এমএসিডি ইন্ডিকেটরটি দু’টি এক্সপোনেন্সিয়াল মুভিং এভারেজের সম্বন্নয়ে গঠিত। সাধারণতঃ একটি মধ্যবর্তী রেখার বিপরীতে দুটি এক্সপোনেন্সিয়াল মুভিং এভারেজের পার্থ্যকের উপর ভিত্তি করে এমএসিডি নির্ণিত হয়। এই মধ্যবর্তী রেখাটি (center line) সেস্থল যেখানে মুভিং এভারেজ দুটিই সমান। একটি চার্টে এমএসিডি  সাথে মধ্যবর্তী রেখা (Center line) এবং এক্সপোনেন্সিয়াল মুভিং থাকে। এই ইন্ডিকেটর –এর মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদী  এমএসিডির সাথে দীর্ঘমেয়াদী এমএসিডির তুলনা করে সাম্প্রতিক ট্রেন্ড কি হবে বা কোনদিকে যাবে তা নির্ণয় করা যায়। এমএসিডি সাধারনত ৩ ধরনের সংকেত দিয়ে থাকে, সিগন্যাল লাইন ক্রসওভার, সেন্ট্রাল লাইন ক্রস ওভার এবং ডাইভারজেন্স।  এমএসিডি ওভার বট বা ওভার সোল্ড অবস্থান দেখায় না।

MACD

এখানে এমএসিডির এ দুটি রেখা নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারনা প্রচলিত আছে। যে দুটি রেখা অংকিত আছে তারা দামের উপর ভিত্তি করে নির্ণিত মুভিং এভারেজ নয়। বরং, এরা দুটি মুভিং এভারেজের –  এর পার্থক্য যা দুটি  মুভিং এভারেজকে তুলনা করে পাওয়া যায়। উপোরোক্ত দৃষ্টান্ত হতে দেখতে পাই, ১২ ও ২৬ দিনেরে মুভিং এভারেজের পার্থক্যের ভিত্তিতে দ্রুত গতিসম্পন্ন মুভিং এভারেজ পাওয়া যায়। পূর্ব্বর্তী এমএসিডি-এর গড় হতে ধীরগতিসম্পন্ন মুভিং এভারেজ পাওয়া যায় এবং উপোরোক্ত উদাহরণ হতে বুঝতে পারি যে এটি হচ্ছে ৯ দিনেরই মুভিং এভারেজ ।এর অর্থ হলো আমরা গত ৯দিনের দ্রুতগতিসম্পন্ন মুভিং এভারেজের  গড় নিয়েছি এবং এর সাথে ধীরগতিসম্পন্ন মুভিং এভারেজেটিকে যুক্ত করেছি । এর মাধ্যমে আমরা একটি সঠিক রেখা পাই।  হিস্টোগ্রামের মাধ্যমে আমরা দ্রুতগতি ও ধীরগতি মুভিং এভারজের এর পার্থ্যক্য খুঁজে পাই। আপনি যদি আমাদের অরিজিনাল চার্ট দেখেন তবে দেখতে পাবেন, যে স্থানে মুভিং এভারেজ গুলোর দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সেখানেই হিস্টোগ্রাম  বেড়েছে। একে ডাইভারজেন্স বলা হয়। কারন, এসময় দ্রুত গতিসম্পন্ন মুভিং এভারেজ ধীর গতিসম্পন্ন মুভিং এভারেজের থেকে দূরে সরে যায়।  যখন মুভিং এভারেজ গুলো পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থান করে তখন হিস্টোগ্রাম ছোট আকার  ধারণ করে। একে কনভারজেন্স বলা হয়। কারন, এসময় দ্রুতগতিসম্পন্ন মুভিং এভারেজ  ধীর গতি সম্পন্ন মুভিং এভারেজের কাছাকাছি অবস্থান করে। এভাবে মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স নামের সৃষ্টি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here