মুনাফা সামান্য বাড়লেও ১০০ টাকা প্রিমিয়াম দাবি

0
708

স্টাফ রিপোর্টার : স্বল্প মূলধনি কোম্পানি বিডি অটোকারসের অবণ্টিত মুনাফা (রিটেইনড আর্নিংস) টানা কয়েক বছর ধরেই ঋণাত্মক; সেসঙ্গে নিট মুনাফাও যৎসামান্য। কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই গত আড়াই মাসে এর শেয়ারদর বেড়েছে ২৬৬ শতাংশ।

কোম্পানিটির দরবৃদ্ধির লাগাম টানতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) লেনদেন স্থগিতের পাশাপাশি তদন্ত কমিটিও গঠন করতে হয়েছে। সে কোম্পানিটিই এবার পুঁজিবাজার থেকে রাইট ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে ১০০ টাকা প্রিমিয়াম চেয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিডি অটোকারসের পর্ষদ সভায় কোম্পানিটির বিদ্যমান স্থাপনা কিংবা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে এলপিজি প্লান্ট স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এ প্রকল্পের অর্থ সংস্থানে ১:১ অনুপাতে (বিদ্যমান একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার) ১০০ টাকা প্রিমিয়ামে রাইট শেয়ার ইস্যুর ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। অবশ্য রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবে বিনিয়োগকারীদের সম্মতি নেয়ার পর বিএসইসির অনুমোদন নিতে হবে।

পাশাপাশি ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে বিডি অটোকারসের পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বোনাস ও ৩ শতাংশ নগদ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৩০ পয়সা। লভ্যাংশ ও রাইটের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় কোম্পানির তেজগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাইট ইস্যুর ঘোষণা দিলেও এর মাধ্যমে মোট কত টাকা পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে, সেটি জানায়নি বিডি অটোকারস। তবে কোম্পানির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ৫১২টি। সে হিসাবে ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে ১০০ টাকা প্রিমিয়ামসহ রাইট শেয়ার ইস্যু করলে ৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে পারবে কোম্পানিটি।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, বিডি অটোকারস একসময় ইতালির পিয়াজ্জিও সিএসপিএর কারিগরি সহায়তায় টু স্ট্রোকস থ্রি হুইলার অটো টেম্পু উৎপাদন ও বাজারজাত করত।

কিন্তু পরিবেশ দূষণের কারণে সরকার টু স্ট্রোক অটো টেম্পু উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করায় ১৯৯৯ সাল থেকেই কোম্পানিটির অটো টেম্পু উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি সিএনজি কনভার্সন ও রিফুয়েলিংয়ের ব্যবসা করছে।

২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ হিসাব বছর পর্যন্ত পাঁচ বছর ধরেই কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফা ঋণাত্মক। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে এর পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা (ঋণাত্মক)। ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। গত পাঁচ বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা ৫০ লাখ টাকা ছাড়ায়নি।

সর্বশেষ ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে এর নিট মুনাফা ছিল ৩৫ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০১৭ থেকে মার্চ-২০১৮) কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে এর অবণ্টিত মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা (ঋণাত্মক)।

এদিকে ব্যবসায়িক ও আর্থিক অবস্থা আকর্ষণীয় না হলেও স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের বেশ নামডাক রয়েছে। প্রায়ই কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই এর শেয়ারদর বাড়তে থাকে। স্বল্প মূলধনি কোম্পানি হওয়ায় এর শেয়ার নিয়ে কারসাজির কথাও প্রায়ই শোনা যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয় তদন্তে একাধিকবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ বছরের জুনের ৩ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১১৯ টাকা ২০ পয়সা, যা মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে প্রায় ২৬৬ শতাংশ বেড়ে আগস্টের ১৬ তারিখে ৪৩৬ টাকায় উন্নীত হয়। কোম্পানিটির এ অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় গত ১৯ আগস্ট থেকে এর শেয়ার লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করে দেয় বিএসইসি।

এক মাসের স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার পর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এর মেয়াদ আরো ১৫ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিডি অটোকারসের অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলামের সমন্বয়ে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিডি অটোকারসের অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৫৪ দশমিক ২৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here