মুনাফা বেড়েছে বিদেশি ৪টি কোম্পানির

0
953

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচটি বহুজাতিক কোম্পানি নামমাত্র পরিশোধিত মূলধন দিয়ে ব্যবসা করলেও দেশীয় কোম্পানিগুলোকে পেছনে ফেলে বেশ ভালো মুনাফা করছে। কোম্পানিগুলো হলো- রেকিট বেনকিজার ও বাটা সু, লিন্ডে বাংলাদেশ ও ম্যারিকো বাংলাদেশ।

বাটা : পাঁচ বছরে প্রতি বছর গড়ে ৯০ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করা চামড়া খাতের কোম্পানি বাটা সু বাংলাদেশে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে। কোম্পানিটির মুনাফাও কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে গড়ে ৩১৩ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

দেশীয় কোম্পানিকে পেছনে ফেলে আয়-মুনাফায় এগিয়ে থাকা ওই বহুজাতিক কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। শেয়ারের ৭০ শতাংশই কোম্পানিটির বিদেশি উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের আছে। তাই নগদ লভ্যাংশের বড় অংশই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

রেকিট বেনকিজার : ডেটল, মরটিন, হারপিক, ভ্যানিশ, লাইজল ও ভিটসহ স্বনামখ্যাত কয়েকটি প্রসাধন পণ্যের কল্যাণে বাংলাদেশে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে। গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটির আয়-মুনাফা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সেইসঙ্গে এ সময়ে গড়ে ৬৩৩ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে রেকিট বেনকিজার।

তবে কোম্পানিটির প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার বিদেশিদের হাতে, তাই লভ্যাংশের অংশ হিসেবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে কোম্পানিটি। সর্বশেষ সমাপ্ত আর্থিক বছর শেষে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আয়-মুনাফায় এগিয়ে থাকা কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র চার কোটি টাকা, যা এদেশের পুঁজিবাজারের একই খাতের স্বল্পমূলধনি কোম্পানি কোহিনূর কেমিক্যালস, ওয়াটা কেমিক্যালস ও জেএমআই সিরিঞ্জের চেয়েও কম। তবে সহসাই ‘পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা কোম্পানিটির নেই’ বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেকিট বেনকিজারের শেয়ার বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

শুধু রেকিট বেনকিজার ও বাটা সু নয়। বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন, লিন্ডে বাংলাদেশ ও ম্যারিকো বাংলাদেশও একইপথে হাঁটছে। সর্বশেষ সমাপ্ত আর্থিক বছরেও প্রায় পৌনে ৭০০ কোটি টাকা আয় ও প্রায় ৬৭ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ১২ কোটি চার লাখ টাকা। গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের তুলনায় একই খাতের বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কয়েকগুণ বেশি।

গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন : বৃহষ্পতিবার গভীর রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘদিনের ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে’ বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। ‘ব্যবসা পরিস্থিতি বিবেচনা করে’ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বাণিজ্যিক ঝুঁকিতে থাকা তাদের ফার্মাসিউটিক্যাল বিজনেস ইউনিটের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের প্রস্তাব করেছে। তবে জিএসকে বাংলাদেশ তাদের কনজিউমার হেলথকেয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাবে এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসা বন্ধের কোনো প্রভাব তাতে পড়বে না’।

লিন্ডে বাংলাদেশ : একইভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ১৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। অথচ একই খাতের অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় এ পরিমাণ খুবই কম। এছাড়া লিন্ডে বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। ওষুধ ও রসায়ন খাতের অপর বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশও পরিশোধিত মূলধনের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে।

ম্যারিকো : এদিকে মূলধনে পিছিয়ে থেকেও ওই পাঁচ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করছে বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো। কোম্পানিরটির পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ম্যারিকোর বিপরীতে একই খাতের অন্যান্য কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা ১১টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, গ্রামীণফোন, বার্জার পেইন্টস, সিঙ্গার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও লাফার্জ-হোলসিমের মতো কোম্পানিগুলো এদেশে বড় বিনিয়োগ করছে। কিন্তু বাকি পাঁচটি কোম্পানি নামমাত্র বিনিয়োগ করেই ফি-বছর বড় মুনাফা করছে। নিজ নিজ খাতে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও কোম্পানিগুলোতে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here