মুনাফা বেড়েছে বাটা সুর, কমেছে উৎপাদন ব্যয়

0
574

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৬৭২ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছিল বাটা সু লিমিটেড। চলতি হিসাব বছরের একই সময়ে তা প্রায় ২৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯৫ কোটি টাকায়।

তবে কোম্পানির উৎপাদন খরচ প্রায় একই অবস্থানে থাকায় মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি দেখাতে সক্ষম হয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বাটার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৭ টাকা ৭১ পয়সা; আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৪৭ টাকা ৫৮ পয়সা।

কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, জুতা তৈরির মূল কাঁচামাল চামড়ার দাম কমায় উৎপাদন ব্যয় কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ও বিক্রি বাড়লেও খরচ আনুপাতিক হারে বাড়েনি। ফলে নিট বিক্রি সাড়ে ৩ শতাংশ বাড়লেও বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী ব্যবসায়িক কৌশলের পরও বাটা সুর বিক্রি বাড়ছে। তবে উৎপাদন ও পরিচালনে কোম্পানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে।

তিন প্রান্তিকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৬৯৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে বাটা সু। এই সময়ে কোম্পানির পণ্য বিক্রি ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বাড়লেও উৎপাদন খরচ বেড়েছে মাত্র ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা দশমিক ৩০ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বাটার উৎপাদন খরচ ৩৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা; যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৯৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিক্রির সমান্তরালে উৎপাদন খরচ না বাড়ায় নিট মুনাফা ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে বাটা সুর। হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৭৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৫৭ টাকা ৭১ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৭ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০৬ টাকা ১৯ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২৫৪ টাকা ১১ পয়সা।

তিন প্রান্তিকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চলতি বছরের জন্য ২৩০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বাটা সু। পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। লভ্যাংশের জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি।

এদিকে জুলাই-সেপ্টেম্বর (তৃতীয়) প্রান্তিকে ১৭ টাকা ৪২ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে বাটা সু, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২২ টাকা ৮ পয়সা। এর আগে প্রথমার্ধে ৩৯ টাকা ২৯ পয়সা ইপিএস দেখাতে সক্ষম হয় বাটা সু, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি।

এ প্রসঙ্গে কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে জুতার বাজারে সর্বোচ্চ বিক্রি হয় দুই ঈদে। ২০১৬ সালে বছরের দুই অর্ধবার্ষিকীতে দুই ঈদ পালন করা হয়। তবে এবার বছরের প্রথমার্ধেই উভয় ঈদ উত্সব সমাপ্ত হয়ে যাওয়ায় জানুয়ারি-জুন সময়ে বিক্রি ও মুনাফায় তুলনামূলক উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

এছাড়া আগের বছর তৃতীয় প্রান্তিকে ঈদুল আজহার বিক্রি যোগ হলেও চলতি বছর তা দ্বিতীয় প্রান্তিকেই যোগ হয়ে যায়। এ কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস কমেছে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরে মোট ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন বাটা সুর শেয়ারহোল্ডাররা। বছর শেষে ইপিএস দাঁড়ায় ৭৬ টাকা ২৪ পয়সা, ২০১৫ সালে যা ছিল ৬০ টাকা ৮০ পয়সা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ১ হাজার ১৮০ টাকায় বাটা সুর শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১ হাজার ২৪৮ টাকা ও সর্বনিম্ন ১ হাজার ১০৫ টাকা।

১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাটা সু কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। রিজার্ভ ৩৪১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৭০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৭ দশমিক ৮, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ৮১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে বাটা সু শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৫ দশমিক ৪৭, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১৫ দশমিক ৬।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here