মুনাফা কমেছে ৮৪টি কোম্পানির, অপরিবর্তিত ৫টি

0
1440

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবামুখী খাতের ১৮৪ কোম্পানি জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মুনাফায় থাকা ১৪৮ কোম্পানির মধ্যে ৬৪টির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

কমেছে ৮৪টির ও পাঁচ কোম্পানির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। বাকি ৩৬টি লোকসান করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গত এক মাসে কোম্পানিগুলোর সংরক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) পর্যালোচনায় এ তথ্য মিলেছে। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে উৎপাদন ও সেবামুখী তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ১৯৬টি। অর্থাৎ প্রান্তিক শেষে নির্ধারিত সময়ে এখনও আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি ১২ কোম্পানি।

প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের বছরের তুলনায় ওষুধ ও রসায়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি, বিবিধ এবং টেলিযোগাযোগ খাতের অধিকাংশ কোম্পানির নিট মুনাফা বা ইপিএস বেড়েছে। সিমেন্ট এবং কাগজ ও ছাপাখানা খাতের প্রায় সব কোম্পানির মুনাফা কমেছে।

এ ছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, বস্ত্র, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক, সিরামিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতসহ অন্য খাতগুলোর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কোম্পানির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

পর্যালোচনা দেখা গেছে, মুনাফায় থাকা ১৪৮ কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। ৩৬ কোম্পানির লোকসান হয়েছে ৭৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে অর্থাৎ গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ে মুনাফায় থাকা ১৪২ কোম্পানির ৫ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। লোকসানে থাকা ৩৩টির প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে। ৯ বহুজাতিক কোম্পানির হিসাব ডিসেম্বরে শেষ হয় বলে ৯ মাসের হিসাব এক্ষেত্রে যোগ হয়নি।

সর্বশেষ প্রান্তিক: গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে টাকার অঙ্কে সর্বাধিক ৬৫৬ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে গ্রামীণফোনের। এ প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৮৬ পয়সা আয় করে, যা আগের বছরে ছিল ৫৬০ কোটি টাকা বা ইপিএস ৪ টাকা ১৫ পয়সা।

টাকার অঙ্কে মুনাফায় এর পরের অবস্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মা নিট মুনাফা করেছে প্রায় ২৯৩ কোটি, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো ২১৯ কোটি, তিতাস গ্যাস ১৪৩ কোটি, ইউনাইটেড পাওয়ার ১১০ কোটি, সামিট পাওয়ার ৮৪ কোটি, রেনেটা ৬২ কোটি, এমজেএল ৫৯ কোটি, বেক্সিমকো ফার্মা ৫২ কোটি, খুলনা পাওয়ার প্রায় ৫১ কোটি টাকা।

শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বৃদ্ধিতে চমক ছিল বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি ডরিনের ক্ষেত্রে। কোম্পানিটির গত প্রান্তিকে ইপিএস অর্জিত হয়েছে ২ টাকা ৩ পয়সা। টাকার অঙ্কে নিট মুনাফা হয়েছে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল মাত্র ৬ পয়সা ও ৫৮ লাখ টাকা।

তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় বেড়ে ইপিএস তিন গুণ হয়েছে আরএসআরএম স্টিল, দেশ গার্মেন্টস এবং বিকন ফার্মার। দেশ গার্মেন্টসের ৬৪ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৫২ পয়সা এবং আরএসআরএম স্টিলের ইপিএস ৮৪ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৯০ পয়সা হয়েছে। বিকন ফার্মার ইপিএস ৩ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ পয়সা হয়েছে।

এ ছাড়া ইপিএস ৫০ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ হওয়া কোম্পানিগুলো হলো- ইফাদ অটোস, আফতাব অটোস, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, জেএমআই সিরিঞ্জস, কোহিনুর কেমিক্যাল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, সাইফ পাওয়ারটেক, দেশবন্ধু পলিমার, ওরিয়ন ফার্মা, এসিআই লিমিটেড, মোজাফফর হোসেইন স্পিনিং, আলহাজ টেক্সটাইল, এমবি ফার্মা।

তালিকায় আরো রয়েছে- ওরিয়ন ইনফিউশনস, জাহিন স্পিনিং, বেঙ্গল উইন্ডসর, আর্গন ডেনিম, ফার কেমিক্যাল, ফরচুন সুজ, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং তিতাস গ্যাস।

আকার ছোট হলেও এইচ আর টেক্সটাইল, ড্রাগন সোয়েটার, আজিজ পাইপস, মুন্নু স্ট্যাফলার্স, বিডি অটোকার, সেন্ট্রাল ফার্মার ইপিএস আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here