মুনাফা কমেছে প্রিমিয়ার সিমেন্টের

0
737

সিনিয়র রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক বাজারে মূল কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক স্থানীয় বাজারে সিমেন্টের দাম বাড়ায়নি ব্যবসায়ীরা। ফলে বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও সর্বশেষ হিসাব বছরে মুনাফা কমেছে এ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের। আগের বছরের তুলনায় তাদের নিট বিক্রি ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বাড়লেও গ্রস (মোট) মুনাফা ১৪ দশমিক ৫৭ ও করপরবর্তী মুনাফা প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে গত এক বছরে ক্লিংকারের দাম ১০-১২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় সিমেন্ট উত্পাদনে আনুষঙ্গিক খরচও বেড়েছে। তবে দেশের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোম্পানি সিমেন্টের দাম বাড়ায়নি। এ কারণে বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বছর শেষে প্রিমিয়ার সিমেন্টের মুনাফা কমেছে। তবে সিমেন্টের দাম সমন্বয় হলে কোম্পানির মুনাফাও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

প্রিমিয়ার সিমেন্টের কোম্পানি সচিব কাজী শফিকুর রহমান বলেন, সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার। টানা নিম্নমুখী থাকার পর ২০১৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করে। এক বছরের ব্যবধানে তা প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালের শুরুতে প্রতি মেট্রিক টন ক্লিংকার কিনতে ৩৮-৩৯ ডলার খরচ হলেও বর্তমানে তাতে ৪২-৪৩ ডলার খরচ হয়।

অন্যদিকে দেশে সিমেন্টের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। পাশাপাশি উত্পাদন ও আনুষঙ্গিক কিছু ব্যয় বাড়ায় গেল হিসাব বছরে কোম্পানির মুনাফা সামান্য কমেছে। তবে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবসা প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে প্রিমিয়ার সিমেন্টের নিট বিক্রি ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩ কোটি ২৯ লাখে উন্নীত হয়েছে। এর আগের বছর তাদের মোট বিক্রি ছিল ৯৩৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের বছর কোম্পানির উত্পাদন খরচ মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের ৭৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ ব্যয় করলেও সর্বশেষ বছরে তা ৮৩ দশমিক ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ফলে কোম্পানিটির গ্রস মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে গেছে। সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রিমিয়ার সিমেন্টের গ্রস মুনাফা হয়েছে ১৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ১৯৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

উত্পাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসার আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ায় বছর শেষে প্রিমিয়ার সিমেন্টের নিট মুনাফা আরো বেশি হারে কমেছে । সর্বশেষ হিসাব বছরে নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে।

২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির করপরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ৬৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি বার্ষিক আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ১৭ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৬ টাকা ৪৮ পয়সা। ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৭১ পয়সা।

এদিকে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে প্রিমিয়ার সিমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের চিটাগং ক্লাব অডিটোরিয়ামে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে প্রতিষ্ঠানটি। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। ২০১৫ হিসাব বছরে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন সিমেন্ট কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। তখন ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৮৩ পয়সা।

দীর্ঘমেয়াদে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ঋণমান ‘ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’। ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত, ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং হালনাগাদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

২০১৩ সালে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার সিমেন্টের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। রিজার্ভ ২২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৮০ দশমিক ৮৩ শতাংশই এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১০ দশমিক ৪২, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও বাকি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ৯২ টাকা ৯০ পয়সায় প্রিমিয়ার সিমেন্টের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৯৮ টাকা ২০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ৮২ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ১৪ দশমিক ২০, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১৭ দশমিক ৭৯।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here