মুনাফা কমেছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের

0
274

স্টাফ রিপোর্টার : লুব্রিক্যান্ট ব্লেন্ডিং ব্যবসায় ভালো করতে না পারায় বেইস অয়েল  ট্রেডিং ও ইউয়াসা ব্র্যান্ডের ব্যাটারি বিপণনে নজর দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডার্স লিমিটেড। দুই বছর আগে শুরু করা এ ব্যবসায় ভালো সফলতাও পাচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি। সর্বশেষ হিসাব বছরে বেইস অয়েল বিক্রিতে তাদের ৩৩ শতাংশ ও ব্যাটারি বিক্রিতে ২২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। তবে করপরবর্তী মুনাফা প্রায় ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে গেছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যক্তি খাতে অনেক প্রতিষ্ঠান লুব্রিক্যান্টের ব্যবসায় এগিয়ে আসায় এ খাতে ধীরে বাজার অংশীদারিত্ব কমেছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের। গেল বছরও কোম্পানির লুব্রিক্যান্ট ব্লেন্ডিং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে আমদানি করা বেইস অয়েল ও ব্যাটারির বিক্রি বাড়ায় মোট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কোম্পানি। তবে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও ব্যাংকে আমানত থেকে আয় কমার কারণে বছর শেষে কোম্পানির নিট মুনাফা কমে গেছে।

ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, কোম্পানির মূল ব্যবসা ছিল লুব্রিক্যান্ট ব্লেন্ড করা। লুব্রিক্যান্ট পণ্য ও লুব বেইস অয়েল আমদানি ও উৎপাদনের ব্যবসাগুলো ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেয়ায় এ ব্যবসায় পরিচালন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমানে ব্লেন্ডিং প্লান্টের সক্ষমতার এক-অষ্টমাংশও ব্যবহার করতে পারছে না কোম্পানিটি। ফলে এ খাতে পরিচালন মুনাফা অনেক কমেছে।

অন্যদিকে ব্যাটারি ও বেইস অয়েল বিক্রির মাধ্যমে মোট টার্নওভার বাড়ছে। তবে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি বাড়ায় শেষ পর্যন্ত কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে। তবে নতুন ব্যবসার সুবাদে আগামীতে ভালো ফল দেখাতে পারবে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস।

কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বছরান্তে কোম্পানির মোট বিক্রি ৩৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। মূলত বেইস অয়েল বিপণনের ওপর ভর করে এ প্রবৃদ্ধি পেয়েছে কোম্পানিটি।

সর্বশেষ হিসাব বছরে আমদানি করা এ পণ্যের বিক্রি ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০১৪-১৬ হিসাব বছরে তাদের বেইস অয়েলের বিক্রি ছিল ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাটারির বিক্রি তিন গুণে উন্নীত হলেও এ খাত থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা রেভিনিউ পেয়েছে তারা, আগের বছর যা ছিল ৬১ হাজার টাকা। তবে কোম্পানির মূল ব্যবসা লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডিংয়ের বিক্রি ধারাবাহিকভাবে কমে সর্বশেষ হিসাব বছরে ৫০ লাখে নেমে এসেছে, আগের বছর যা ছিল ৫৪ লাখ টাকা।

বিক্রির তুলনায় উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং এফডিআর থেকে আয় কমে যাওয়ায় করপরবর্তী মুনাফাও কমে গেছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের। সর্বশেষ অর্থবছর কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং  প্রশাসনিকসহ অন্যান্য সাধারণ খরচ আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক আমানতের এফডিআর বাবদ আয় আগের বছরের তুলনায় ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে গেছে। এতে বছর শেষে করপরবর্তী মুনাফা কমে গেছে ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরে করপরবর্তী ৪ কোটি ৭ লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, আগের বছর যা ছিল ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪০ টাকা ৬৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৪১ টাকা ৭০ পয়সা। সর্বশেষ বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ১৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস। এ সময় কোম্পানিটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ১৪ টাকা ১৮ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১৩ টাকা ৩২ পয়সা। ৩০ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫৭ টাকা ৮৭ পয়সা।

১৯৭৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের অনুমোদিত মূলধন ৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, বাংলাদেশ সরকারের হাত ৫১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৬ দশমিক ৬৫ এবং বাকি ২৩ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে সর্বশেষ ১ হাজার ৩৫ টাকায় ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের শেয়ার হাতবদল হয়। সমাপনী দর ছিল ১ হাজার ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৮৪০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৬৫ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ২৫ দশমিক ২৭ ও হালনাগাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ৩৬ দশমিক ২১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here