মুনাফা কমেছে এপেক্স ট্যানারির, মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

0
697

স্টাফ রিপোর্টার : এপেক্স ট্যানারির মুনাফা কমছে। আট বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ৬৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত চামড়ার চাহিদা ও মূল্যহ্রাস এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতে খরচ বৃদ্ধির কারণে কোম্পানির মুনাফা কমেছে বলে দাবি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের।

এ-ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে কোম্পানির উৎপাদন ব্যাহত ও মূলধনি ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন রয়েছে ২০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে এপেক্স ট্যানারির পণ্য বিক্রিলব্ধ আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। যা এর আগের (২০১৫-১৬) আর্থিক বছরের তুলনায় প্রায় ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম।

রফতানি আয় কমায় এ সময় কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ৫০ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে চার কোটি ৫০ লাখ টাকায় নেমেছে। সে হিসেবে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত আট পঞ্জিকাবছরে এপেক্স ট্যানারির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায়  ৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ৬৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে।

এপেক্স ট্যানারির নির্বাহী পরিচালক এমএ মাজেদ বলেন, বিশ্ববাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমেছে। সেই সঙ্গে মূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি খরচ। চামড়া প্রক্রিয়াজাতে খরচ বেড়েছে। এতে ট্যানারিগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে। অন্যসব কোম্পানির মতো আমরাও সংকটে পড়েছি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় চামড়া খাতের কোম্পানি এপেক্স ট্যানারি। শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপের কোম্পানিটি পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রফতানি করে। তালিকাভুক্তির পর কয়েক দশক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল এপেক্স ট্যানারি। বেশকিছু কারণে ২০১০ সালের পর সংকটের মুখে পড়ে কোম্পানিটি।

২০১০-১১ আর্থিক বছরে প্রায় ২৫১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করে এপেক্স ট্যানারি। যা তার আগের (২০০৯-১০) আর্থিক বছরের তুলনায় প্রায় চার কোটি ৬০ লাখ টাকা কম। এক বছরে কোম্পানিটির রফতানি আয় প্রায় ৭৯ কোটি ২২ লাখ বাড়লেও কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় চার কোটি ৬০ লাখ টাকা কমে যায়। যার মূল কারণ  উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। এর বিপরীতে রয়েছে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া। এরপর প্রায় আট বছর ধরে সংকটের আবর্তে ঘুরপাক করছে এপেক্স ট্যানারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here