মুনাফায় পিছিয়ে সিমেন্ট খাত

0
1935
সিনিয়র রিপোর্টার : বিশ্ববাজারে সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের দাম কমলেও মুনাফায় পিছিয়ে পড়ছে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলো। প্রিমিয়ার সিমেন্ট ছাড়া জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এ খাতের তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির মুনাফা কমেছে।
এদিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমলেও বিলম্বিত কর সমন্বয় করে মুনাফা সামান্য বেশি দেখিয়েছে বহুজাতিক হাইডেলবার্গ সিমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ষা মৌসুমে অবকাঠামো উন্নয়নের গতি হ্রাসে সিমেন্টের বিক্রি কমার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বিক্রি বাবদ ব্যয় বেড়েছে, যা তাদের মুনাফায় প্রভাব ফেলেছে।

সর্বশেষ প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বড় মূলধনি সিমেন্ট কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। হিসাব বছরের তৃতীয় (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬১ পয়সা।

প্রথম তিন প্রান্তিকেও এ কোম্পানির মুনাফা এক বছর আগের তুলনায় কমেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।

এদিকে সর্বশেষ প্রান্তিকে আগের দুই প্রান্তিকের তুলনায়ও পিছিয়েছে লাফার্জ সুরমা। বছরের প্রথম প্রান্তিকে এর ইপিএস ১ টাকা ১৬ পয়সা ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৬৬ পয়সা। আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন না কমলেও বিক্রি হ্রাসের পাশাপাশি তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে।

২০১৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয়  ছিল ২১০ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা। গেল প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ৬ লাখ ১৬ হাজারে।

মুনাফা কমা প্রসঙ্গে লাফার্জ সুরমার পরিচালক (অর্থ) মাসুদ খান বলেন, লাফার্জ সুরমার আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ক্লিংকার বিক্রির মাধ্যমে। বিশ্বব্যাপী ক্লিংকারের দাম ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এ প্রান্তিকের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন কমে যাওয়ার কারণে সিমেন্ট বিক্রিও কিছুটা কমেছে।

আরেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হাইডেলবার্গ সিমেন্ট জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কিছুটা বেশি দেখালেও তাদের কর-পূর্ববর্তী মুনাফা কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে এ কোম্পানির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ কোটি ৮ লাখ ১১ হাজার টাকা কমেছে। তবে আগের বছর পরিশোধ করা অগ্রিম কর সমন্বয়ে গেল প্রান্তিকে ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেঁচে যায় তাদের, যা নিট মুনাফা বাড়িয়েছে।

এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে আগের তিন মাসের তুলনায় কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে। গেল প্রান্তিকে এর ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১ পয়সা, যা দ্বিতীয় (এপ্রিল-জুন) প্রান্তিকে ছিল ৬ টাকা ২৬ পয়সা।

দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মুনাফায় সবচেয়ে পিছিয়েছে মেঘনা সিমেন্ট। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে এর ইপিএস তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি কমেছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চিত্রটি আরো খারাপ। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মেঘনা সিমেন্টের ইপিএস ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১ টাকা ৩৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে এসে তা ১১ পয়সায় ঠেকেছে।

এদিকে সর্বশেষ প্রান্তিকে কনফিডেন্স সিমেন্টের ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২ পয়সা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকের তুলনায়ও তাদের মুনাফা কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর ইপিএস ছিল ১ টাকা ৮৩ পয়সা ও প্রথম প্রান্তিকে ১ টাকা ৫৬ পয়সা।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ও বিক্রি না কমলেও ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার নতুন সম্পত্তি অধিগ্রহণের ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা কম দেখাতে হয়েছে তাদের।

এদিকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান দেখিয়েছে আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৮ পয়সা লোকসান করেছে কোম্পানিটি। অবশ্য আগের বছরের একই সময়েও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ পয়সা। সিমেন্টের বিক্রি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ডিলারদের কাছ থেকে অনেক বকেয়া অর্থ তুলতে না পারায় এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরামিট সিমেন্টের কোম্পানি সচিব শাহ আলম।

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিক্রি ও মুনাফা উভয়ই কমেছে এমআই সিমেন্ট লিমিটেডের। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৫ হিসাব বছরেও এর ইপিএস আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।

এদিকে প্রান্তিক মুনাফার বিচারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা ভালো করেছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেড। তবে ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের বার্ষিক মুনাফা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। গত ছয় মাসে বেশ কয়েকবার সিমেন্টের দাম কমে যাওয়ায় বার্ষিক মুনাফা কমেছে বলে জানান প্রিমিয়ার সিমেন্টের কোম্পানি সচিব কাজী শফিকুর রহমান।

কাঁচামালের দর ও সিমেন্টের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক আগে থেকেই ক্লিংকারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে দর টনপ্রতি ৩-৪ ডলার কমেছে। বস্তাপ্রতি সিমেন্টের ভিত্তিতে হিসাব করলে কাঁচামালের দর কমেছে ১২ থেকে ১৩ টাকা। তবে সিমেন্টের দাম কমেছে ১৫ টাকার বেশি। এ কারণে গেল প্রান্তিকে অনেক কোম্পানির মুনাফা কমে থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here