সিনিয়র রিপোর্টার : অস্বাস্থ্যকর কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির জন্য মালিকানা বদলের খবর বিশাল টনিক হিসেবে কাজ করছে। যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ছিল নিম্নমূখী, মালিকানা বদলের খবরে তা কয়েকগুণ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের চমকে দিয়েছে। মালিকানা বদলের খবর কিংবা গুজব থেকে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

আরও ১২ থেকে ১৩ কোম্পানিতে এমন পরিবর্তন আসছে বলে গুজব।

কোম্পানি বদলে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক এস আলম গ্রুপ, ঢাকার সিটি, আলিফ ও ইউনাইটেড গ্রুপ এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরীর নাম বেশ আলোচিত। অনেক কোম্পানির অবশ্য মালিকানা বদলও হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে মালিকানায় বদল হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল্য কারসাজির উদ্দেশ্যেই গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

গত এক বছরে কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গ্রুপ বা তার কর্ণধাররা বাণিজ্যিক ৬টি ব্যাংকের শেয়ার কিনছেন। এছাড়া আরও ১২ থেকে ১৩ কোম্পানিতেও একই ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে জোর গুজব আছে। যার প্রভাবও রয়েছে শেয়ারগুলোর দরে। ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর পর্ষদ শেয়ার কিনে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় ব্যাপক রদবদল হয়েছে। ব্যাংকটি এখন আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণে। সম্প্রতি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকেও একই রকম পরিবর্তন এসেছে। এস আলম গ্রুপ এই ব্যাংকটিরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বছরের শুরুতে শেয়ার কেনার আগে দর ছিল ২২ থেকে ২৩ টাকা। এরপর ৫০ টাকায় ওঠে।

গত এক বছরে আরও ছয় কোম্পানির ক্ষেত্রে মালিকানায় বড় পরিবর্তন হয়েছে। এগুলো হলো- রহিমা ফুড করপোরেশন, ফু-ওয়াং সিরামিক, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্টার্ন কেবলস ও আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।

রহিমা ফুড : করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুর রউফ চৌধুরীর উত্তরাধিকারদের কাছে থাকা কোম্পানিটির ৫৩ শতাংশ শেয়ার কিনে এর মালিকানায় এসেছে ব্যবসায়িক গ্রুপ সিটি। ২০১৫ সালের জুনেও শেয়ারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। সিটি গ্রুপ মালিকানায় আসছে গুঞ্জনে দর নয়গুণ বেড়ে গত আগস্টে ১৯২ টাকায় ওঠে।

ফু-ওয়াং সিরামিক : নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এসএস স্টিল নামের কোম্পানি। বস্ত্র তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনসের মালিক জাবেদ অপগেনহাপেন এসএস স্টিলেরও মালিক। এ ঘটনার আগে গত ডিসেম্বরের শুরুতে ফু-ওয়াং সিরামিকের শেয়ার ১২ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। জানুয়ারিতেই তা ১৮ টাকা এবং গত আগস্টে তা ২৭ টাকা ছাড়ায়।

সম্প্রতি বন্ধ কোম্পানি সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইউরোদেশ গ্রুপের এক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

ইস্টার্ন কেবলস : নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও এক পরিচালকের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন কেবলসের ২০ শতাংশেরও বেশি শেয়ার কিনেছে বেসরকারি কোম্পানি বিআরবি। শোনা যাচ্ছে, বিআরবির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ইস্টার্ন কেবলসের পরিচালক হতে যাচ্ছেন। এ খবরে শেয়ারটির দর ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে সরকার কখনই এ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার ছাড়বে না বলে জানা গেছে।

সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস : কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনতে সমঝোতা চুক্তি করে আলিফ গ্রুপ। কিন্তু নানা কারণে সম্প্রতি ওই চুক্তি থেকে সরে আসে কোম্পানিটি। কিন্তু এ খবরে শেয়ারটির দর ১৩ টাকা থেকে তিনগুণ বেড়ে প্রায় ৪০ টাকা হয়। এখন অন্য এক গ্রুপের কাছে কোম্পানিটি বিক্রি হচ্ছে বলে গুজব রয়েছে।

সিএমসি কামাল : অবশ্য সেন্ট্রাল ফার্মার মালিকানায় না এলেও আলিফ গ্রুপ পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের সব শেয়ার কিনে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিএমসি কামাল টেক্সটাইলের। অবশ্য এ ঘটনা কয়েক বছর আগের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here