মার্জিনে ফিরল দুই কোম্পানি

0
816

স্টাফ রিপোর্টার : ক্যাগারি পরিবর্তনের কারণে ৩০ কার্যদিবস নন-মার্জিন শেয়ারে লেনদেন করার পর মার্জিনে ফিরছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতে দর বিপর্যয়ের দুই কোম্পানি। কোম্পানি ২টি হলো-বিবিএস কেবলস এবং ওয়াইমেক্স ইলেকটোড লিমিটেড।

রোববার হতে বিবিএস কেবলস এবং আগামী সোমবার ওয়াইমেক্স ইলেকটোডের শেয়ার মার্জিন বা ঋণযোগ্য শেয়ার হিসাবে গণ্য হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারী হতে ‘এন’ ক্যাটাগরি হতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়ে নন-মার্জিন বা অঋণযোগ্য শেয়ার হিসাবে বিবিএস কেবলসের লেনদেন শুরু হয়। গত ১ মার্চ বৃহস্পতিবার ‘এ’ ক্যাটাগরিতে কোম্পানিটির লেনদেন ৩০ কার্যদিবস পূর্ণ হয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, আগামীকাল ৪ মার্চ রোববার হতে কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিনেবল বা ঋণযোগ্য শেয়ার হিসাবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে, গত ২১ জানুয়ারী হতে ‘এন’ ক্যাটাগরি হতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়ে নন-মার্জিন বা অঋণযোগ্য শেয়ার হিসাবে ওয়াইমেক্স ইলেকটোডের শেয়ার লেনদেন শুরু করে। আগামীকাল ৪ মার্চ রোববার ‘এ’ ক্যাটাগরিতে কোম্পানিটির লেনদেন ৩০ কার্যদিবস পূর্ণ হবে বিধায় আগামী ৫ মার্চ সোমবার হতে কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিনেবল বা ঋণযোগ্য শেয়ার হিসাবে গণ্য হবে।

বিবিএস কেবলস: ৩০ জুন ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য বিবিএস কেবলস ৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৩ পযসা। ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা বা ১৬০.২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রখম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৪৭ পয়সা। এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ২ টাকা ৬ পয়সা বা ১৪০.১৪ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই বিবিএস কেবলসের লেনদেন শুরু হয়। প্রথমদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫১ টাকায় শুরু হয়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠানামা করে। তবে দিনশেষে প্রথম দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর নির্ধাররিত হয় ৮২.১০ টাকায়। এরপর শেয়ারদর ক্রমাগত বাড়তে থাকে। দুই সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৫০ টাকা অতিক্রম করে। তারপর শেয়ারদর কিছুটা সংশোধেনে ফিরে আসে। লভ্যাংশ ঘোষণার সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার ১৪৩ টাকার আশেপাশে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। তবে লভ্যাংশ এ্যাডজাস্ট হওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ার ১২৯ টাকায় নেমে আসে।

বাজার বিশ্লেষনে দেখা যায়, লভ্যাংশ এ্যাডজাস্ট হওয়ার পর বিবিএস কেবলসের শেয়ারদর হঠাৎ পতনে নেমে আসে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেলেও শেয়ারদরে পতন ঠেকানো যায়নি। ক্রমাগত পতনের ধাক্কায় গত সপ্তাহের প্রথম দিকে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮৫ টাকার নিচে নেমে যায়। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে এর শেয়ারদর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। শেষ কার্যদিবস বৃহ্স্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ৯১ টাকা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির বর্তমান মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১২.৮৯।

ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড: ৩০ জুন ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৯ পয়সা।

এদিকে, চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫৪ পয়সা। ইপিএস কমেছে ২০.৩৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি হিসাব বছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৩ পয়সা। এর আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা। ইপিএস কমেছে ১০.৫৭ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেন শুরুর প্রাক্কালে ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ফলে কোম্পানিটির শেয়ার দরে ক্রমাগত পতন নেমে আসে।

অভিষেকের দিন (৬ নভেম্বর ২০১৭) ১২০ টাকায় হাঁকানো কোম্পানিটির শেয়ারদর চার মাসের ব্যবধানে কমে যায় ৬৪ শতাংশের বেশি। অস্বাভাবিক দর বিপর্যয়ের কোম্পানিটির শেয়ারদর গত বৃহস্পতিবার ছিল ৪২.৪০ টাকা। সেই হিসাবে এর বর্তমান মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ২২.৮০।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here