মার্চে উৎপাদনে যাচ্ছে মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের নতুন ইউনিট

0
432

সিনিয়র রিপোর্টার : ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি নতুন রিং স্পিনিং ইউনিট চালুর ঘোষণা দেয় বস্ত্র খাতের কোম্পানি মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ইউনিটটি স্থাপনে নিজস্ব উৎসের পাশাপাশি ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা নেয় কোম্পানিটি।

চলতি বছরের মে মাসে নতুন ইউনিটের কাজ শেষ হলেও নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে ইউনিটটি চালু করতে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। আগামী মার্চের মধ্যে নতুন ইউনিটে যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষ করে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব হারিস আলম বলেন, নতুন ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতিও কারখানায় এসে পৌঁছেছে। তবে যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের জন্য বেশ কিছুটা সময় লাগছে।

তিনি বলেন, গত মে মাস থেকেই বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। ফলে গত হিসাব বছরের প্রায় দুই মাসসহ চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে অর্ধেক সক্ষমতায় উৎপাদন করতে হচ্ছে। আশা করছি, মার্চের মধ্যেই নতুন ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলসের নিরীক্ষক এমফেসিস অব ম্যাটারে জানিয়েছেন, কোম্পানিটির ৩৬ হাজার স্পিন্ডল রিং স্পিনিং মিলের কাজ চলমান রয়েছে। পাওয়ার আপগ্রেডেশন ও গ্যাস স্বল্পতার কারণে এ বছরের মে মাস থেকেই কারখানার ৫০ শতাংশ রোটর মেশিন বন্ধ আছে। এ কারণে দৈনিক উৎপাদন ও রাজস্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম হবে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

উল্লেখ্য, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের পর্ষদ। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫১ পয়সা, যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা। ৩০ জুন এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান দেখিয়েছে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ পয়সা। যেখানে আগের বছর একই সময়ে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সা।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৪ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ৯ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ২০৩; যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৩৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ২৬ দশমিক ৯০, বিদেশী শূন্য দশমিক শূন্য ৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৩৩ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here