মার্কেট ড্রপ করলেও ‘গ্রাহক লসে থাকবে না’

0
4330

‘মার্কেট যদি ১০ পার্সেন্ট ড্রপ করে, সেখানেও আশা করি আমাদের গ্রাহক লসে থাকবে না। ধরে নিই, মার্কেট ২০০% পড়ে গেছে, এরপরেও যদি আমি আমার কাস্টমারের আগ্রহ ধরে রাখতে পারি, সেটাই হবে আমার সফলতা’। পুঁজিবাজারের একাল-সেকাল নিয়ে কথা প্রসঙ্গে ‘প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে’ এসব কথা বলেন শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের সি ই ও মঈন উদ্দিন।

‘মার্কেট যদি ১০ পার্সেন্ট ড্রপ করে, সেখানেও আশা করি আমাদের গ্রাহক লসে থাকবে না’ -এমন কথার সূত্র ধরেই এগিয়ে চলে কথা। রাজধানীর মতিঝিলে শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের অফিসে সম্প্রতি একান্তে কথা হয় তার সঙ্গে। নতুন-পুরনো বিনিয়োগকারীর শেয়ার লেনদেন, মার্জিন ঋণ, ব্যবসায়িক কৌশল ও তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন- শাহীনুর ইসলাম

moin uddin (3)স্টক বাংলাদেশ : পুঁজিবারে সেকাল এবং একালের লেনদেন নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা-

মঈন উদ্দিন : আমাদের দেশে বিনিয়োগকারীরা স্ক্রিনের এখনো সামনে এসে ট্রেড করেন। এটাতে তারা বেশ কমফোর্ট ফিল করেন। কারণ, শেয়ার কেনার পরে দাম-বাড়ছে, না কমছে এটা দেখতে আমাদের বিনিয়োগকারী অভ্যাস্ত। আমাদের মানসিকতায় এখনো সে রকম আসেনি যে, ট্রেড বিট না দেখে আমরা ট্রেড করবো। তবে বিগত দিনের তুলনায় আমাদের সে ধারণা এবং অভ্যাস অনেকটা বদলেছে। যে কারণে আমরা সচেতন বিনিয়োগকারী পাচ্ছি -এটা পুঁজিবাজারে অনেক বড় সফলতা।

তুলনামূলক মানুষ এখন অনেক সচেতন, আগের মতো বিট দেখে অনেকেই আর লেনদেন করেনা। শুধুমাত্র এই কারণেই বাজার ভালোর দিকেই থাকার সম্ভাবনা। অন্যদিকে প্রথম সারির কোম্পানিগুলোর প্রতি এই মানুষগুলোর বেশ ঝোঁক রয়েছে। তাই বলা যায়, সচেতন বিনিয়োগকারীরাই এখন মাঠে। তারা ভালো করবে বলেই এখনো টিকে আছে।

স্টক বাংলাদেশ : অন্য ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে আপনার হাউজের গুণগত বৈশিষ্ঠের পার্থক্য কি, যা একজন বিনিয়োগকারীকে আকর্ষণ করবে?

মঈন উদ্দিন : শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের বয়স মাত্র ১ বছর। গত  ১ বছরে আমরা অনেক অর্জন করেছি। তার মধ্যে কর্ম ও দক্ষতায় ইতোমধ্যে আমরা টপ টেনে অবস্থান নিয়েছি। আমাদের অর্জনের পেছনে আমরা তিনটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ত্ব থাকি- বিনিয়োগকারীর আগ্রহ (ইনভেস্টর ইন্টারেস্ট), ইনভেস্টমেন্ট প্রটেক্ট এবং গাইড লাইন।

আমাদের সম্মানিত অনেক ইনভেস্টর আছেন; যারা সশিক্ষিত। তারা অনেক ভালো বোঝেন, তবু সে বোঝার মধ্যে কিছুটা গরমিল থাকে। যা আমাদের দেশের বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে অমিল। যেমন- ফান্ডামেন্টালি চারপিতে হওয়ার কথা, তবে তা হচ্ছে না। তাই পাবলিক ইন্টারেস্টকে আমাদের বেশ গুরুত্ত্ব দিয়ে চলতে হয়। আমরা তাদের বিভিন্ন ইন্টারেস্টকে প্রটেক্ট করি।

আমাদের একটি রিচার্স টিম রয়েছে, তারা মার্কেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সবসময় রিচার্স করছে। টিম আমাদের আপগ্রেড তথ্য দিচ্ছে, সে অনুযায়ী আমরা ইনভেস্টমেন্ট প্রটেক্ট করার চেষ্টা করছি। এর ফলে আমাদের কাস্টমাররা খুব বেশি প্রফিট করতে না পারলেও একবারে লস করবেন, তা নয়। মার্কেট যদি ১০ পার্সেন্ট ড্রপ করে, সেখানেও আশা করি আমাদের গ্রাহক লসে থাকবে না। ধরে নিই, মার্কেট ২০০% পড়ে গেছে, এরপরেও যদি আমি আমার কাস্টমারের আগ্রহ ধরে রাখতে পারি, সেটাই হবে আমার সফলতা।

সবচেয়ে বড়কথা এবং অন্য হাউসে যা হয়- কাস্টমার অর্ডার দিল তাৎক্ষণিকভাবে তা করা হলো না। তবে করা হলো পরে- ট্রেডার আগে বিগ ভলিউমে শেয়ার কিনলো, তারপরে কাস্টমারকে দিলেন। অন্যদিকে আমাদের হাউসে প্রডাক্ট কেনার তথ্য বাইরে প্রকাশের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রিটার্ন পলিসি গ্রাহকদের আমরা জানিয়ে দেই। যে কারণে বছরের মধ্যে আমাদের অবস্থানগত পার্থক্য এখন চোখে পড়ার মতো।

স্টক বাংলাদেশ : আপনার দৃষ্টিতে একজন গ্রহীতার মার্জিন ঋণ গ্রাহণের আগে ও পরে মূল্যায়ন কিভাবে করবেন?

মঈন উদ্দিন : মার্জিন ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো ব্যবসায় সফলতা অর্জন। তবে অর্জন করতে গিয়ে অনেকেই ব্যর্থ হয়েছেন, হচ্ছেন। ব্যর্থতা থাকবে, তবে যিনি দিচ্ছেন তার গাইড লাইন জরুরি। ব্যর্থতার জন্য গাইড লাইনের অভাব ছিল।

তবে আমাদের ইনভেস্টরদের ইনভেস্টমেন্ট প্রটেক্ট করার কারণে তারা অনেক দূর এগিয়ে আছেন।

স্টক বাংলাদেশ : কোম্পানির আইপিও গ্রহণ ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ-

মঈন উদ্দিন : কোম্পানিগুলোকে আগে স্বচ্ছ হতে হবে। একই সঙ্গে যারা এই স্বচ্ছতার মূল্যায়নপত্র দিচ্ছেন তাদেরও স্বচ্ছ হওয়া দরকার। কেননা, আমাদের কাছের যখন ইনভেস্টররা বলেন, অমুক কোম্পানিটা বেশ ভালো মনে করলাম- এখন দেখি…। তাদের মুখে আফসোস… বাণী ভালো শোনায় না। তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ফিন্যানন্সিয়াল এ্যাক্ট প্রয়োজন। আশা করি তখন স্বচ্ছতা আসবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ হলো- তথ্য গ্রহণ করুণ এবং গাইড লাইন নিয়ে এগিয়ে যান। সফলতা আসবেই।

সবার প্রতি রইল নিরন্তর শুভেচ্ছা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here