‘মার্কেটের পরিবর্তন আসছে’

0
3949

পুঁজিবাজার নিয়ে গত বছরে ডিএসই ও বিএসইসি যুগান্তকারী অনেক ভূমিকা নিয়েছে। সময়ের বিবেচনায় যদিও অনেক পদক্ষেপ এখনো সফল নয়। তবে সুদূর দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়ে কিছু সফলতা আসবে। এজন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে বাজার উন্নয়নে ডিএসইর যা নেই তা অন্যের কাছ থেকে নেয়ার মানসিকতাও দেখাতে হবে। তবেই আমাদের বাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার যোগান দিতে পারবে। এমনটাই মনে করেন প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও মনজুরুল আলম।

রাজধানীর মতিঝিল কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার কথা হয় সিইও মনজুরুল আলমের সঙ্গে। তার একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে আসে বিনিয়োগের পরিবেশ, আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে নানা প্রসঙ্গ। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন –শাহীনুর ইসলাম।

আলেচানার শুরুতে তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানের কথা বলেন। আমাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দুটি। একটি হচ্ছে- প্রিমিয়িার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং সিকিউরিটিজ ব্রোকারিং ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস লিমিটেড। ইতোমধ্যে আমরা সিকিউরিটিজ ব্রোকারিং হাউসের নাম পরিবর্তন করার চিন্তা করছি। তবে ঠিক এই মুহূর্তে নয়। এটা আমাদের প্লানিংয়ের মধ্যে রয়েছে।

চট্টগ্রামে জন্ম। তবে চাকরি জীবনের শুরু চট্টগ্রামের একটি আইএসপি কোম্পানিতে। এরপরে শুরু হয় গ্রিনডেল্টা কোম্পানি লিমিটেড (গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ চালু করি), মার্কেন্টািইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এ্যাপেক্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, হাজী আহমদ ব্রাদার্সে কনসালটেন্ট (১মাস) এবং প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড। চাকরির বেশিরভাগ সময় কেটেছে গ্রিনডেল্টা কোম্পানি লিমিটেড, মার্কেন্টািইল ব্যাংক ও এ্যাপেক্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে। সিকিউরিটিজ নিয়ে সময় কাটলো প্রায় ১৪ বছর। এখন সিইও হিসেবে স্থির হলাম প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড কোম্পানিতে।

স্টক বাংলাদেশ : কোম্পানিতে আইপিও আবেদনকারীদের চাঁদার হার নিয়ে নতুন আইন করতে যাচ্ছে ডিএসই। প্রতি আইপিও আবেদনের ওপর ব্রোকারেজ হাউসকে ২০ টাকা করে কমিশন ফি দেওয়ার জন্য বিএসইসিকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এতে সিকিউরিটিজ হাউসগুলো কতোটা উপকৃত হবে? অন্যদিকে আইপিও আবেদনকারীদের কি রকম প্রভাব ফেলবে মনে করেন-

মনজুরুল আলম : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ যদি ২০ টাকা নেয়, তাহলে ব্রেকারেজ হাউসগুলো কতো নেবে? হাওলা, লাগা বিভিন্ন বিষয়ে ডিএসইকে দেয়া হয় ৯ পয়সা। আমরা প্রত্যেকে ক্লাইন্ডের কাছ থেকে নেই ৪০ পয়সা। এজন্য প্রত্যেকে আইপিওতে যদি একজনকে দিতে হয় ২০ টাকা, তাহলে আমি চাপায়ে দেব ১০০টাকা। আবার অনেকে চার্জ নেবে ২০০ টাকা।

এ জন্য আগে ঠিক করতে হবে ব্রোকার হাউসগুলো কতো নেবে। শুধু ডিএসই চার্জ কতো নেবে এটা ঠিক করলে হবে না, একটা আইপিও আবেদন করতে যদি এতো টাকা দিতে হয়। অন্যদিকে ওই আবেদনকারী যদি লটারিতে আইপিওটা না পায়; তা হলেও তাকে ২০ টাকা দিতে হচ্ছে। মোট কথা- পাওয়া-না পাওয়ায় কথা নয়, তাকে টাকা দিতে হবে। আবার সে ৫ হাজার টাকার একটা দরখাস্ত করবে সে টাকাও এক মাস থেকে যাবে। অন্যদিকে যদি ২০ টাকা চার্জ করা হয়, তাহলে এটা তাদের জন্য বার্ডেন হবে কী-না এটাও ভবনার বিষয়।

তবে আমার সাজেশন থাকবে- যারা আইপিতে (লটারিতে শেয়ার পাবেন)  পাবেন তাদের ক্ষেত্রে চার্জ করা যায়। অন্যদের ক্ষেত্রে চার্জ যতোই হোন না করাই ভালো। এক্ষেত্রে কর্পোারেট বডিগুলো কতো নেবে এটা আগে নির্ধারণ হওয়া দরকার। কারণ, ব্রকারেজে হাউসগুলো ইচ্ছামতো চার্জ করবে। যাতে (দ্বিগুণ-তিনগুণ) না করে সেজন্য আগে তাদের নির্ধারণ করে দেয়া দরকার।

স্টক বাংলাদেশ : ডিএসইর নতুন সফট ওয়্যার সম্পর্কে ধরণা দেয়া হয়েছিল- বাজার বৃদ্ধি করেতে এটি অনেক সহায়ক হবে। তৃণমূল পর্যন্ত বাজারের বিস্তৃতি ঘটবে। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে আপনার মূল্যায়ন কি?

মনজুরুল আলম : মার্কেটের সবেচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- আমাদের মার্কেটের কিছু লোককে ‘কনফিউস্ট’ করা। নতুন সফটওয়্যার চালু করায় এখানে পরিবর্তন হওয়ার বিশেষ কিছু নাই। লোকজন আগে অডলটের শেয়ার ট্রেড করতে পারতো না, এখন ট্রেড ভলিউমে সেগুলো যোগ হয়েছে। অডলট মেইন ট্রানজিট অপশনে চলে আসলো, যেটা বাইরে ছিল। ধরে নিই আগে ১০ কোটি শেয়ার অডলটে ছিল, ট্রানজিট হতো না। এখন সেগুলো লেনদেনে চলে আসলো।

আরেক দিক হলো- ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে এটা ভালো হয়েছে। কেননা- হাতে ৫০০ টাকা আছে, কিছু শেয়ার কিনে নিলাম। তবে বাজারে এখনো সেই প্রভাব পড়েনি।

স্টক বাংলাদেশ : ডিএসইর নতুন সফটওয়্যার ডিএসই ফ্লেক্স-টিপির সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে –

মনজুরুল আলম : নতুন সফটওয়্যারে ইতোমধ্যে ন্যাটিং ফ্যাসিলিটি এলাউ করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে- আমার কাছে কিছু শেয়ার আছে- আজকের দিনেইে আমি চাইলেই বেচা-কেনা করতে পারবো। সকালে কিনে বিকেলে বিক্রি করলাম। যেটা আগে বন্ধ ছিল। এটার কারণে কিন্তু ট্রেড ভলিউম বেড়ে যাবে। আগে যেখানে ট্রানজিট ছিল ৫ লাখ, এখন ডাবল হয়ে সেখানে ১০ লাখ। ট্রেড অভিউম আস্তে আস্তে বাড়বে।

মার্কেটের যে পরিবর্তনগুলো আসছে- এটার কারণে স্লোভাবে বাজারে ইফেক্ট হবে। ন্যাটিং খুব মেজর ও ভাইটাল পয়েন্টে থাকবে। এখানে অনেক ট্রেডার আছেন, যারা ডে ন্যাটিং করতে চান। দিন শেষে তারা কিছু লভ্যাংশ (টাকা) নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান। তারাও ফিরে আসবেন- তখন মার্কেটের ট্রেড ভলিউম বেড়ে যাবে।

ইতোমধ্যে হাওলা চার্জ নতুন নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের যে খরচ বেডে যেত তা কিন্তু বন্ধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত একটা কাজ করেছে ডিএসই। হাওলা-লাগা চার্জ নির্ধারণ হওয়ায় ডিএসই এবং আমাদের প্রফিটের তেমন পার্থক্য থাকছে না। ডিএসই ব্লকট্রেডে এবং ফরেন ট্রেডে (৫লাখ) চার্জ অনেকটা বাড়িয়েছে। যেহেতু এখানে বিগ ভলিউমে ট্রেড হয়, সেক্ষেত্রে বেশি নেয়াই উচিৎ। ডিএসই ভালো ডিসিশন নিয়েছে। এগুলো তেমন কিছু না, তবে ট্রেড ভলিইম বাড়ার জন্য কাজে লাগবে ন্যাটিং।

আর মর্কেটে ফান্ড ফ্লো বাড়াতে হবে। মানি ফ্লো -তেমন একটা আসছে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক এখানে বড় বাধা। (আদ্যপান্ত দ্বিতীয় পর্বে থাকবে)।

নতুন এই সফটওয়্যার বুঝে উঠতে সময় লাগবে। আগে স্ক্রল ছিল না, নতুনভাবে স্ক্রল যোগ করা হয়েছে। দ্রুত চলে, বিশেষ দেখা যায় না। তবে ডিএসই বিশেষ কিছু ট্রেনিং দিয়ে এই সফটওয়্যার চালু করেছে। তবুও আমার দিক থেকে সাজেশন থাকবে- ব্রেকার হাউসের ট্রেডারদের এক সপ্তাহের জন্য একটি কোর্স করা হোক। ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারে বাংলাদেশ কেপিট্যাল ম্যানেজমেন্ট মার্কেট। এই সফট ওয়্যারে ইন-আউট সম্পর্কে জানলে তাদের এবং বিনিয়োকারীদের খুব ভালো হবে।

সমস্যা : সফটওয়্যারে আমরা স্টপ লস, পুট অপশন ও কলঅপশন বিষয়গুলোকে যোগ করতে বলেছিলাম। বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত আমরা দেখিনা। স্টক বাংলাদেশের ওয়বসাইটেও এ বিষয়ে অনেক অপশন আছে। ফিউচার ট্রেড দিয়ে ট্রেড হচ্ছে, পাউচ দিয়ে ট্রেড হচ্ছে। তবে সফটওয়্যারে স্টপলচ থাকলে আরো ভালো হতো-

স্টপলচের ক্রাইটরিয়া হচ্ছে- অটো সেল। আমি নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার নির্দিষ্ট টাকায় ট্রেড দিয়ে রাখলাম। অটো সেল হয়ে যাবে। এই অপশনগুলো সেখানে নাই। তাছাড়া টেকনিক্যাল অপশনেরও উন্নতি নাই। যা আপনাদের স্টক বাংলাদেশে আছে, তা ডিএসইর কাছে নেই। এক্ষেত্রে তৃতীয় কোন পার্টি ডিএসইকে তথ্য সরবরাহ করতে পারে। তৃতীয় পার্টি হিসেবে স্টক বাংলাদেশও হতে পারে। কেননা তাদের কাছে প্রচুর ডাটা আছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এই ডাটা তাদের কাছ থেকে নিতে পারে। ডিএসইর ওয়েবসাইট থেকে কোন কোম্পানির তথ্য যদি চান, তাহলে পাবেন না। কারণ কোম্পানির ব্যালেন্সশিটে পরিপূর্ণ তথ্য নেই। কোম্পিানির প্রডাক্ট, পরিচালক, সাবসিডিয়ারি কি তা নেই। জিনিসগুলো ডিএসইর ওয়েবসাইটে যোগ করা হয়নি। স্টক বাংলাদেশ -এর কাছে যে ডাটা আছে, ডিএসইর কাছে সে ডাটা নেই। এক্ষেত্রে ডিএসইকে সাজেস্ট করবো, ডাটা সরবরাহের জন্য এরকম একটা থার্ড পাটিকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

থার্ড পার্টির মাধ্যমে ক্যাপিটেল মার্কেটে শুভ দিক আসবে। অনেক কোম্পানি তখন ডাটা সংগ্রহে উৎসাহী হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে আগামী সপ্তাহে আসছে দ্বিতীয় পর্ব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here