মন্দ-ভালোয় ফুরালো বছর, ছিল উল্লেখযোগ্য সফলতা

0
428

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৩ সাল মন্দ-ভালোয় কেটেছে। বছর জুড়ে ঘটেছে নানা ঘটন-অঘটন। পুরাতনকে পেছনে ফেলে পুঁজিবাজারে যতটুকু সফলতা হয়েছে তার ওপর দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা আগামী  বছর- ২০১৪ সাল ভালোই কাটবে।

পুরাতন বছরে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট থাকলেও নতুন বছরে তা ছাপিয়ে উঠতে পারবে। কেননা পুরাতন বছরে বিফলতার পছনে যেসব কারণ ছিল তার বেশিরভাগই ইতিমধ্যে পুঁজিবাজারে সফলতার হারে যুক্ত হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজারে ২০১৩ সালে সফলতাগুলো হচ্ছে- বিএসইসির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বিএসইসির ভবনের ভিত্তি উদ্বোধন, ২১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তি করা হয়েছে।

আরো রয়েছে- ৭টি কোম্পানির রাইট ইস্যু ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা, সিএসইতে নতুন লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা চালু, ডিএসইতে নতুন সূচক ও ডিএসইর বাংলা ওয়েবসাইট সংযুক্ত করা হয়েছে।

সফলতার মধ্যে রয়েছে বছর জুড়ে সূচকের উত্থান-পতন ও লেনদেন, অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বিলুপ্তি, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারদের প্রভিশনিংয়ের সুবিধা, রিসার্স অ্যানালাইসিস বিধিমালা, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধন, রাইট ইস্যু বিধিমালা সংশোধন ও মেম্বার মার্জিন লিমিট বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পুঁজিবাজারের গত এক বছরের অগ্রগতির বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ বিষয়ে আরও সুচিন্তিতভাবে বিবেচনায় নেয়া উচিৎ ছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকলে বাজারে এখনো অশুভ চক্র বিরাজ করছে। এনিয়ে বাজারে এখনো আস্থার শঙ্কক রয়ে গেছে।

এফবিসিসিআই স্টান্ডিং কমিটি অন ক্যাপিটাল মার্কেটের কো-চেয়ারম্যান আলি জামান বলেন, বাজার নিয়ে এখনো বলার কিছু নেই। বাজারকে স্থিতিশীল করতে যতোটা কাজ হয়েছে তার চেয়ে আরো বেশি হওয়ার দরকার ছিল। কারণ বাজার স্থিতিশীলতার বিষয়ে একাধিকবার তদন্ত করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এক কথায় বাজার এখনো জুয়াড়িদের হাতে।

২১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তি : ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পায় মোট ২১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে কোম্পানি রয়েছে ১৯টি ও ২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে।

কোম্পানিগুলো হলো- হাওয়েল টেক্সটাইলের আইপিও অনুমোদন, মতিন স্পিনিং মিলস, ইমারেল্ড ওয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এএফসি এগ্রো বায়োটেক, মোজাফফর হোসাইন স্পিনিং মিলস, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেস, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ফ্যামিলিটেক্স বিডি, বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিক, ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, গ্লোবাল হেভিকেমিক্যাল, গোল্ডেন হারভেস্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, আরগন ডেনিমস, সামিট পূর্বাঞ্চল ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড দুটি হলো- এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

তবে শেয়ারবাজারে থেকে কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

এই ১৮টি কোম্পানির মধ্যে ১৬টি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১০ হাজার ১১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম নিয়েছে ৬৩৪ কোটি টাকা। আর এমারেল্ড ওয়েল ও মতিন স্পিনিং এ দু’টি কোম্পানি এখনও অর্থ উত্তোলন করেনি। আগামী বছর কোম্পানি দুটি অর্থ উত্তোলন করবে।

৭টি কোম্পানির রাইট ইস্যু :  গত এক বছরে সাতটি কোম্পানি রাইট শেয়ারের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ফিনিক্স ফাইন্যান্স বাজারে ৯২ লাখ ৪ হাজার ১৩৯টি রাইট শেয়ার ছেড়ে ৯ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৩৯০ টাকা, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ শেয়ার ছেড়ে ১৮ কোটি ৩৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, ফাস ফাইন্যান্স ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯৯টি শেয়ার ছেড়ে ৫৪ কোটি ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯০ টাকা, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ৩ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার শেয়ার ছেড়ে ৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে।

এছাড়া  বিডি ফাইন্যান্স ৩ কোটি ৯০ লাখ ৮ হাজার ৫১৫টি রাইট শেয়ার ছেড়ে ৩৯ কোটি ৮৫ হাজার ১৫০ টাকা, আরামিট সিমেন্ট রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ২৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটি মোট এক কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১:১ অনুপাতে (১টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি) রাইট শেয়ার ছাড়বে । রূপালী লাইফ এক কোটি ২০ লাখ ৮ হাজার ৩০৪টি শেয়ারের বিপরীতে ১:১ অনুপাতে রাইট শেয়ার ছাড়বে। ফেস ভ্যালু ১০ টাকার সঙ্গে ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি রাইট শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। সে হিসেবে রাইট শেয়ারের মাধ্যমে  কোম্পানিটি ৩৬ কোটি দুই লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা সংগ্রহ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here