মনোনয়নপত্র জমা, ভোটের মাঠে শিল্পপতি এবাদুল করিম বুলবুল

0
1725

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দুবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন ওরিয়ন গ্রুপের পরিচালক মো. এবাদুল করিম বুলবুল। প্রথমে ২০০৬ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো তাকে। পরে জোটের স্বার্থ রক্ষায় এই মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়।

তবে এবার একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত শুক্রবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে পরের দিন শনিবার দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তা জমা দেয়া হয়েছে বলে রবিবার বিকালে জানিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. এবাদুল করিম বুলবুল। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় তার সমর্থকরা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী গণসংযোগ।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দেশের বিশিষ্ট এই শিল্পপতি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন তিনি।

ভোটের রাজনীতিতে নবীনগরে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি গত ১২-১৩ বছরে। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক সবার কাছে পরিচিত মুখ। দশম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের লড়াই থেকে দূরে থাকলেও এবারে সক্রিয় তিনি। তাছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন না বলে জানালে নির্বাচনী মাঠ দখলে আরো সক্রিয় হয়ে ওঠেন এই শিল্পপতি।

দলীয় কর্মীদের নিয়ে এলাকায় তার সমর্থকরা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী গণসংযোগ। দলীয় প্রধানের মনোনয়ন পেলে এবং সব কর্মীর সহযোগিতায় বিজয় নিশ্চিত করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন এবাদুল করিম বুলবুল।

এবাদুল করিম বুলবুল

এ সম্পর্কে এবাদুল করিম বুলবুল জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে ২০০৫ সালে নবীনগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হই। এরপর আর রাজনীতির মাঠ ছেড়ে যাইনি। আমি যখন নবীনগর আওয়ামী লীগের হাল ধরি তখন ছিলো দলের দুর্দিন, নেতৃত্বশূন্য মাঠ।

উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল গ্রামের মৌলভী ফজলুল করিম ও রাবেয়া খাতুনের সন্তান মো. এবাদুল করিম বুলবুল। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বীকন ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড এবং বীকন পয়েন্ট লিমিটেডেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরো রয়েছে- ওরিয়ন গ্রুপ এবং কোহিনুর কেমিক্যালস কোম্পানী (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

নবীনগর আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দান সম্পর্কে তিনি বলেন, সেই সময়ে দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমরা দলীয় কর্মসূচী দিলে তৎকালীন বিএনপির দলীয় এমপির সহায়তায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তা ভেঙ্গে আমরা কর্মসূচি সফল করেছি। ওই সময়ে পুরো নবীনগর আমাকে চষে বেড়াতে হয়েছে। যে কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আজ নৌকার জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এর মূলে আমার অনেক ত্যাগ রয়েছে। এমন অনেক কারণে অন্যদের চেয়ে দলীয় মনোনয়ন দাবিটা আমার অনেক বেশি।

তিনি আরো বলেন, তাছাড়া আমার সমর্থক গোষ্ঠীর একটা চাহিদা আছে। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আলেম-উলামা থেকে শুরু করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ খুশি হবেন।

২০০৫ সালে সরাসরি রাজনীতিতে এলেও ১৯৯১ সাল থেকে এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন বুলবুল। শিক্ষার বিস্তার ও মানোন্নয়নে ভ‚মিকা রাখতে শুরু করেন তখন থেকে। সলিমগঞ্জ কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন তিনি। এখনো এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন এই শিল্পপতি। তিনি দলীয় অনুমোদন পেলে এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে স্থানীয় অনেকে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here