মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ধর্মঘটে স্বর্ণের বাজারে নতুন প্রভাব

0
729

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ববাজারে টানা তিনদিন ঊর্ধ্বমুখী মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দর। বর্তমানে ধাতুটি সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে লেনদেন হচ্ছে। কাতার ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি স্বর্ণের বাজারে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকরা।

এদিকে বাংলাদেশে স্বর্ণের দোকানে আগামী রোববার, ১১জুল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ‘আপন জুয়েলার্সের’ স্বর্ণ ফেরত ও স্বর্ণ নীতিমালা বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক ড. মইনুল খানের অপসারণ দাবি করেছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন।

বুধবার বায়তুল মোকাররমে সমিতির কার্যালয়ে দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি এনামুল হক খান দোলন এসব কথা জানান। তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত স্বর্ণ নীতিমালা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি বন্ধ থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতি এবং বাংলাদেশের ধর্মঘটের কারণে নতুন করে দরে প্রভাব পড়তে পারে।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (নিমেক্স) কোমেক্স বিভাগে মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম বেড়েছে আউন্সে ১৪ ডলার ৮০ সেন্ট। আগস্টে সরবরাহ চুক্তিতে সোমবারের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৯৭ ডলার ৫০ সেন্টে। কোমেক্সে এ নিয়ে টানা তিনদিন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পার করল ধাতুটির বাজার।

ফ্যাক্টসেটের তথ্যমতে, গত বছরের ৪ নভেম্বরের পর বর্তমানে সর্বোচ্চে বিক্রি হচ্ছে ধাতুটি। স্বর্ণের সাম্প্রতিক বাজার সম্পর্কে থিংকমার্কেটসের প্রধান বাজার বিশ্লেষক নঈম আসলাম বলেন, বেশকিছু দিন ধরে স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যুক্তরাজ্যের নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রধান জেমস কোমিকে অপসারণসহ কয়েকটি ইস্যুতে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকে। এর প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম বাড়তে শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, এসব বিষয় ছাপিয়ে স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কাতার ইস্যু। সম্প্রতি কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কথা মাথায় রেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। এ কারণে পুঁজিবাজার বা বন্ড মার্কেটের বদলে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন তারা, যা ধাতুটির দর ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।

স্বর্ণের দরবৃদ্ধিতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির পাশাপাশি দুর্বল ডলারেরও অবদান রয়েছে। মঙ্গলবার আইসিই ইউএস ডলার সূচক কমেছে দশমিক ৩ শতাংশ। দুর্বল ডলার বরাবরই স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি।

স্বর্ণের দরবৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইন্সিগনিয়ার প্রধান বাজার বিশ্লেষক চিন্তন কারনানি বলেন, বর্তমানে সবকিছুই স্বর্ণের দরবৃদ্ধির পক্ষে যাচ্ছে। কাতার ইস্যু, দুর্বল ডলার— সবকিছুই স্বর্ণের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।কোমেক্সে মঙ্গলবার স্বর্ণের সঙ্গে মিল রেখে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুরও দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রুপার দাম বেড়েছে আউন্সে ১২ দশমিক ৯ সেন্ট। জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স রুপা বিক্রি হয়েছে ১৭ ডলার ৭১ সেন্টে।

একইভাবে আউন্সে ৫ ডলার ৭০ সেন্ট দাম বেড়েছে প্লাটিনামের। জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে সোমবারের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে মঙ্গলবার প্রতি আউন্স প্লাটিনাম বিক্রি হয়েছে ৯৬৩ ডলার ৩০ সেন্টে।আরেক মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে আউন্সে ৬ ডলার ৫৫ সেন্ট। আগামী সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে এদিন কোমেক্সে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়াম ৮৪৮ ডলার ৪০ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here