মডার্ন ও রহিমা ফুডের ২৩৪ কোটি টাকার কি হবে?

0
1035

সিনিয়র রিপোর্টার : মডার্ন ডাইং ও রহিমা ফুড কোম্পানিতে মোট ২৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কোম্পানি দুটিকে চলতি বছরের ১৮ জুলাই (বুধবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ তালিকাচ্যুত করেছে। এরপরে অনিশ্চিয়তায় পড়েছে দুটি কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অর্থ। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও কারসাজি ঠেকাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও দুই কোম্পানিতে বিনিয়োগ বিপুল পরিমাণ টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলছে না।

‘ভুল সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ করায় ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু করার নেই’। জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম।

দুটি কোম্পানিতে মোট ২৩৪ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ১৫১ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। অর্থ ফেরত পাওয়ার অনিশ্চিতার মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

১৯৯৭ সালে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুডের ২ কোটি ২০০টি শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ১৮ জুলাই (বুধবার) ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৭৪ দশমিক ৭০ টাকায়। সে হিসেবে কোম্পানির মোট শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৩৪৮ কোটি ৪০ হাজার ৩৪ লাখ ৯৪০ টাকা।

কোম্পানিতে (ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৩৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার) ১ কোটি ২৫ লাখ ২৪ হাজার ১২৫টি শেয়ারধারী বিনিয়োগকারীদের ২১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মডার্ন ডাইং কোম্পানির মোট শেয়ারের পরিমাণ ১৩ লাখ ৬৮ হাজার। যা টাকার অংকে দাঁড়ায় ৪৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। এই টাকার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ৫ দশমিক ০১ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৩০ দশমিক ০১ শতাংশ শেয়ার। ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৩৬টি শেয়ারের বাজার মূল্য ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৭২ টাকা।

ডিএসইতে লেনদেন বন্ধের কারণে একই দিন দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেন বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। কেন তালিকাচ্যুত করা হবে না জানতে চেয়ে চিঠি দেয় সিএসই কর্তৃপক্ষ।

এরপরে ডিএসই জানায়, কোম্পানি দুটি চাইলে ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) মার্কেটে তাদের শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। এজন্য  শর্ত সাপেক্ষে ওটিসি মার্কেটে লেনদেনের জন্য আবেদন করতে হবে।

অন্যদিকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানা যায়, আদালতের নির্দেশনায় সম্পদ বিক্রি করে প্রথম দফায় কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। এরপর কোম্পানির কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ কো হবে। তারপর যদি টাকা থাকে তবে শেয়ারহোল্ডাররা ভাগ পাবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ডিএসইর এমন সিদ্ধান্ত আরো আগে নেয়া উচিৎ ছিলো। তাহলে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছাতো।

তিনি বলেন, কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ কিংবা অদূর ভবিষ্যতে উৎপাদন চালু হবে না, সেই সব কোম্পানিকে দ্রুত ডি-লিস্টেড করা উচিৎ। যারা ভুল সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ করেছেন তারা ধরা খাবেন; এটাই স্বাভাবিক। তাদের জন্য ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছুই করার নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here