ভ্যাট নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-এনবিআর টানাপড়েন

0
113

সিনিয়র রিপোর্টার : যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয়ের (আরজেএসসি) যাবতীয় সেবার বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ করবহির্ভূত রাজস্ব হিসাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

তবে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী দেশে সেবা প্রদানের বিপরীতে আদায়কৃত অর্থে ১৫ শতাংশ মূসক বা ভ্যাট আদায় করে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেয়ার বিধান থাকায় এ নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে দুই সংস্থার মধ্যে।

ভবিষ্যতে আদায়কৃত অর্থে এনবিআরকে ভ্যাট দিতে রাজি হলেও পুরনো বকেয়া পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে আরজেএসসিকে বকেয়াসহ সব ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে জানিয়ে চিঠি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

এনবিআর বলছে, ২০১১ সাল থেকে সরকারি ব্যবসা ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানের পণ্য-সেবার বিপরীতে ভ্যাট প্রদানের বিধান করেছে এনবিআর। সে হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) নেয়ার সুযোগও রেখেছে এনবিআর। কেউ চাইলে নিবন্ধন না নিয়ে অন্য হিসাবেও ভ্যাট জমা দিতে পারে।

আরজেএসসির ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য। তবে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ভ্যাট দাবি করলে তারা তা প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে করবহির্ভূত রাজস্ব হিসাবে জমা দেয়ার কথা জানায়। তবে মূসক আইনে সুস্পষ্ট বিধান থাকায় এনবিআরকে তাদের বকেয়াসহ ভবিষ্যতের সব ভ্যাট দিতে হবে।

জানতে চাইলে এনবিআরের মূসক নীতির সদস্য ড. রেজাউল হাসান বলেন, আইন অনুযায়ী সেবার বিপরীতে ভ্যাট দিতে হয় যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে। আরজেএসসি সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট দিতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোন উৎস থেকে এ ভ্যাট সংগ্রহ করবে, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো বকেয়াসহ চলমান ভ্যাট আহরণ করা।

এনবিআর বলছে, মূসক আইন ও বিধি অনুযায়ী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, পারমিট প্রদান বা নবায়নের সময় ১৫ শতাংশ হারে উেস ভ্যাট কাটার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী আরজেএসসির সেবা প্রদানের বিপরীতে উেস ভ্যাট কর্তনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে মৌখিকভাবে অনুরোধ ও একাধিকবার চিঠি দেয় এনবিআর।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি উেস ভ্যাট কর্তন বা পরিশোধ করেনি। পরে প্রতিষ্ঠানটির ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে গত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে চার বছরে ৫০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার সেবার বিপরীতে ৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ভ্যাট দাবি করা হয়। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সেবার বিপরীতে ১৬ কোটি ৩৪ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৫২ কোটি ৭২ লাখ টাকার সেবার বিপরীতে ২২ কোটি ৯ লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২১২ কোটি ৭ লাখ টাকার সেবার বিপরীতে ৩১ কোটি ৮১ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৩৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সেবার বিপরীতে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভ্যাট বকেয়া পড়েছে। চার বছরে মোট ৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা বকেয়ার বিপরীতে ৩০ কোটি টাকা সুদসহ মোট ১০৬ কোটি টাকা দাবি করে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এদিকে সেবার বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ করবহির্ভূত রাজস্ব হিসাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার কারণে তার ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য নয় দাবি করে তা থেকে অব্যাহতি চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এনবিআরের মামলার কারণে চলমান সেবা থেকে প্রাপ্ত অর্থের বিপরীতে ভ্যাট দিলেও বকেয়া ভ্যাট দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে এনবিআরকে আবারো চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব নাজমুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বকেয়া দাবি করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার কারণে তা এখন পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ফলে এ ভ্যাট থেকে আরজেএসসিকে অব্যাহতি দিতে হবে।

জানতে চাইলে নাজমুল হক বলেন, আরজেএসসি সেবার বিপরীতে যে ফি আদায় করত, এতদিন তাতে ভ্যাট আদায় করত না। তারা যে ফি পেত, তা করবহির্ভূত রাজস্ব হিসাবে সরকারি কোষাগারে নিয়মিত জমা দিয়েছে। এখন তাদের কাছে পুরনো ভ্যাট দাবি করা অযৌক্তিক। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here