ভ্যাটের সব কার্যক্রম অনলাইনে শুরু জানুয়ারিতে

0
331

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী বছরের প্রথম দিন থেকেই ভ্যাটের সব কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থায় নিয়ে আসছে। বিদ্যমান আইনে কিছু সংশোধন ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের সফটওয়্যারে নতুন সংযোজন এনে এটি বাস্তবায়ন করবে সংস্থাটি। ফলে রিটার্ন জমা দেয়া ও টাকা পরিশোধসহ সব কাজই অনলাইনের মাধ্যমে করতে হবে ভ্যাটদাতাদের। নতুন করে শুধু অনলাইনে নিবন্ধন নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হলে বাতিল হয়ে যাবে বিদ্যমান আইনের আওতায় নিবন্ধিত ৭ লাখ ৭৫ হাজার নিবন্ধন।

বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) গ্রহণ, ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়া ও অর্থ পরিশোধসহ ভ্যাটের সব ব্যবস্থা অনলাইনে করার পরিকল্পনা নিয়ে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে ৫৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়।

সব প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে সেবা দিতে চলতি বছরের মার্চে নতুন করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ই-বিআইএন কার্যক্রম শুরু করে এনবিআর। প্রকল্পের কাজের প্রায় শেষ মুহূর্তে আইনটি স্থগিত হওয়ায় পুরনো আইনেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্পের বাজেট বাড়িয়ে এরই মধ্যে সফটওয়্যার সংযোজনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প। এখন শুধু আইনি সংশোধন সম্পন্ন হলেই জানুয়ারি থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সব কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এনবিআর সদস্য (ভ্যাট প্রশাসন) ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. রেজাউল হাসান বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিদ্যমান আইনেই অনলাইন পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৯ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর নতুন আইনের জন্য করা হলেও তা পুরনো আইনেই সংযুক্ত করা হচ্ছে। প্রথমে ভ্যাটের একটি ইউনিক হারের জন্য উন্নয়ন করা সফটওয়্যারটিতে নতুন সংযোজনের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের উপযোগী করা হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জানুয়ারিতে সম্পূর্ণরূপে অটোমেশনে যাবে ভ্যাটের কার্যক্রম।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ভ্যাটের সব কাজ অনলাইন প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প। বিদ্যমান আইনের স্ল্যাবভিত্তিক ভ্যাটহার সামনে রেখেই প্রযুক্তি সাজানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থ বরাদ্দ। চলতি বছরের ১৫ মার্চ সব শ্রেণীর ব্যবসায়ীর জন্য অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে তা এখনো চলছে।

পুরনো বিআইএনে ৭ লাখ ৭৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের তালিকা থাকলেও নতুন পদ্ধতিতে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ২১০টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে। অনলাইন প্রকল্পের উদ্যোগে বৃহত্ করদাতা ইউনিটসহ (এলটিইউ) বড় কমিশনারেটে নিয়মিত ভ্যাটদাতা সব প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন নিবন্ধের আওতায় আনা হয়েছে। জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে পুরনো সব বিআইএন বন্ধ করে দেবে এনবিআর। তখন থেকে অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর ছাড়া কোনো ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি করতে পারবেন না ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বিদ্যমান ভ্যাট আইনও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। অনলাইন কার্যক্রম শুরু করতে পুরনো আইনের অসঙ্গতি দূর করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের যেন অসুবিধা না হয়, সেজন্য কার্যকর একটি ব্যবস্থা চাইছে এনবিআর। আইন সংশোধনে সংস্থাটির ভ্যাট বিভাগের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে যুক্ত করা হয়েছে। এনবিআর ও এফবিসিসিআইয়ের মধ্যে শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সভা আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর সংসদে নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন পাস হয়। এরপর নতুন আইনটি বাস্তবায়নে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০১ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ও বাকি ৪৪৯ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

এরপর ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর ব্যয় ও মেয়াদ ঠিক রেখে প্রথম দফা প্রকল্প সংশোধন করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারিগরি কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন করে ১৩৮ কোটি টাকা ও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় এনবিআর। এনবিআরের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৯০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের জন্য শুধু ভ্যাট থেকে ৯১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এনবিআর, যা গত বছরের তুলনায় ৩২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্বের এ লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা করেছিল সংস্থাটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here