সিনিয়র রিপোর্টার : ভুল হিসাবের ভিত্তিতে সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে জরিমান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর প্রত্যেককে ১৭ লাখ থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানা দিতে হয়েছে। আরও কয়েকটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক জরিমানা করতে যাচ্ছে।

তবে ভুল হিসাবের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা এমন অভিযোগ করেন। তারা বলেন, পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কত, সে হিসাব কষতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুল করছে।

তবে ব্যাংকগুলোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জরিমানা করা ব্যাংকগুলো হলো- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ইত্যাদি। আরও চারটি ব্যাংককে একই কারণে জরিমানা করা হয়েছে।

তিন সপ্তাহে বিশেষায়িত ব্যাংক বিডিবিএল প্রায় সোয়াশ’ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। অন্য অনেক ব্যাংকও এভাবে শেয়ার বিক্রি করেছে। যে কারণে দুই সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ক্রমাগত কমছে শেয়ারদর।

ভুল হিসাবের ভিত্তিতে ব্যাংককে জরিমানা করা বা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বিদ্যমান আইন ও আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুসরণ করেই ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ (শেয়ারবাজার এক্সপোজার) হিসাব করা হয়। জরিমানা করার আগে আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়েই জরিমানা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এস এম রবিউল হাসান বলেন, এক্সপোজার গণনা বিষয়ে কারও কোনো আপত্তি থাকলে তা যথাযথভাবে জানালে বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্যই পর্যালোচনা করবে। ভুল হলে তা সংশোধনে আপত্তি নেই।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কঠোর অবস্থান নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিষয়ে খুবই রক্ষণশীল নীতি অবলম্বন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ারবাজার সূচক বাড়লেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে নজরদারি জোরদার করে। এতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আরও অভিযোগ হলো, ব্যাংকের সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউস থেকে মার্জিন ঋণ গ্রাহকদের শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে শুধু ক্রয়ের হিসাব নেওয়া হচ্ছে, বিক্রির হিসাব নয়। প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের কেনাবেচা নিট হিসাব দিতে চাইলেও তা নিতে নারাজ কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর বিশেষায়িত ব্যাংক বিডিবিএল শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ আইনি সীমায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নিজস্ব ৮০০ কোটি টাকার পোর্টফোলিও থেকে মূলধন জোগান হিসেবে ৫৭০ কোটি টাকার শেয়ার সহযোগী দুই কোম্পানিকে দিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অনুমোদন রয়েছে। তারপরও বিশেষায়িত এ ব্যাংককে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর আহমেদ বলেন, তারা আইন পরিপালন করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান। বিনিয়োগ আইনি সীমা অতিক্রম করায় আইনের মধ্যে থেকেই তা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর পরবর্তী ধাপে আছে। এ অবস্থায় জরিমানা করায় প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর এমন অভিযোগের বিষয়ে সহমত পোষণ করে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভায় বহুবার বিষয়টি তোলা হয়েছে। গুটিকয় ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনলেও প্রকৃত সমস্যা সমাধানে কখনই বাংলাদেশ ব্যাংকের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

সাইফুর রহমান বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ২০১১ সালে জারি করা একটি সার্কুলারে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন যে কোনো উদ্যোগ, পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহণের আগে সংশ্নিষ্ট বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করতে হবে বা অবহিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কখনই বিএসইসিকে কিছু জানায় না।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here