শ্যামল রায়ঃ ‘বর্তমান পুঁজিবাজার অনেকটাই বিনিয়োগ সহায়ক। এখন চাইলেই যে কেউ বাজারে সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন। কারণ বাজার এখন সব দিক দিয়েই ভালো অবস্থানে রয়েছে। আর যে সমস্ত বিনিয়োগকারী দেখে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করছেন, তারা নিঃসন্দেহে লাভবান হচ্ছেন। এই বাজার থেকে যদি কোন বিনিয়োগকারী প্রফিট করতে না পারে, আমার মনে হয় শেয়ার বাজারে তার থাকার কোন প্রয়োজন নেই।’ বর্তমান শেয়ার বাজারে সার্বিক দিক নিয়ে বলছিলেন ইমরান হোসেন সোহান।

ইমরান হোসেন সোহান একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। শাহ্‌জালাল ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ’এ বিনিয়োগ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। বর্তমান শেয়ার বাজার নিয়ে তার নিজস্ব কথা বললেন স্টক বাংলাদেশের সাথে। তার একান্ত কথাগুলো তুলে ধরা হল।

আমি মনে করি এই মুহুর্তে বাজার পুরোপুরি বিনিয়োগ বান্ধব। আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন, ভাল ফান্ডামেন্টাল যে শেয়ারগুলো সেগুলোর দিকে ক্রেতারা এখন বেশ মনোযোগী। এর একটাই কারন বায়াররা এখন আর মিস গাইডেড হচ্ছেন না। তারা খোজ খবর নিয়ে কোম্পানির বাছবিচার করে, তারপর ঐ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন।

পাশাপাশি সরকারের দিক থেকেও বোধ হয় একটু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এর ফলে নতুন যারা বাজারে প্রবেশ করছেন তারাও সহজে বাজারের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন।  এর ফলে প্রতিনিয়তই আমাদের বাজারে বেশ কিছু নতুন বিনিয়োগকারী প্রবেশ করছে। আরও একটা পজেটিভ ব্যাপার হলো এই নতুন বিনিয়োগকারীদের বেশীরভাগই তরুন। তারা শিক্ষিত এবং জেনে-শুনে বিনিয়োগ করছেন।

আপনি দেখবেন- আমাদের মার্কেটে ব্যাংকগুলোর তো একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছেই।  তারা বাজারকে গতিশীল করতে বেশ সচেষ্ট রয়েছে। বিদিশী বিনিয়োগও সম্প্রতি বেড়েছে। বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বড় বড় ধ্বসগুলোতে যারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন যারা এতদিন বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারাও আবার বাজারে ফিরে আসছেন। সবচেয়ে আশার কথা হলো তারা পুরোনো লস কিছু কিছু করে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বোধহয় এই মুহুর্তে একটু পর্যবেক্ষনে রয়েছেন। যে কারণে বাজারের সূচকের বড় ধরনের কোন নেতিবাচক প্রভাব পরেনি।  সপ্তাহ জুড়েই দেশের উভয় স্টক একচেঞ্জে উর্দ্ধমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহেই ডিএসইতে গড় লেনদেন হয়েছে প্রায় এক হাজার এক শত চল্লিশ কোটি টাকার  মত। আর লেনদেন বেড়েছে নয় দশমিক সাত চার (৯.৭৪) শতাংশ। এটা নিশ্চয়ই ভালো সাইন।

বিশ্লেষকরা বারবার আশাবাদ ব্যাক্ত করছেন, “সামনে বাজার আরও ভালো হবে”, কারণ বাজার যে ভালো হবে তার সবগুলো লক্ষনই বিদ্যমান। এছাড়াও ডিএসই’র কিছু বিধিনিষেধ এর কারনে অতিতে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ ছিলো না বলে মনে করেন বিনিয়োগকারীরা। সেই সমস্ত নিয়ম-কানুন ডিএসই এবং সিএসই উঠিয়ে নিয়েছে। তাছাড়া মার্কেটের ক্রমাগত চাপের কারণে মার্কেট টাইম বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। এইগুলোতো ভালো বাজারেরই লক্ষণ, তাই নয় কি?

কাজেই আমরা আশাবাদি সামনে বাজার অনেক ভালো হবে। এই মুহুর্তে ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টররা জাংক শেয়ারগুলোর প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ছোট ছোট বিনিয়োগকারীরাও খেটে খুটে প্রফিট নিতে পারছেন। বিনিয়োগকারীরা বাজার করার মতই দেখে শুনে-বুঝে ভালো কোম্পানির শেয়ারই কিনছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here