‘ভালো কোম্পানি খুবই কম, এ সংখ্যা বাড়ানো উচিত’

0
709

আমাদের দেশে পুঁজিবাজার তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং জাতীয় বাজেটে বা জিডিপিতে এর অবদান অত্যন্ত কম— ২১ শতাংশ মাত্র। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে এ অবদান ৮৬ শতাংশেরও বেশি এবং থাইল্যান্ডে প্রায় ১১৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে এর অবদান ১৪০ শতাংশ এবং সুইজারল্যান্ডে ২২৯ শতাংশ। এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা কম। ফলে মেনিপুলেশন সহজ হয় এবং তালিকাভুক্ত বা লিস্টেড ভালো কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম। এ সংখ্যা বাড়ানো উচিত। আসন্ন বাজেটে যেসব কোম্পানি নতুনভাবে তালিকাভুক্ত হবে, তাদের আগামী দুই বছরের জন্য আয়করমুক্ত করা হলে অনেকে হয়তো লিস্টেড হতে পারে। ন্যূনপক্ষে কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে ১৫ শতাংশ আয়কর যদি ছাড় দেয়া যায় তাহলে কিছু কোম্পানি লিস্টেড হতে পারে।

তৃতীয়ত. সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিদেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে তালিকাভুক্ত করার জন্য অনেকেই সুপারিশ করেছেন। তাছাড়া ব্যাংকের সুদের হার ও ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা সমন্বয় প্রয়োজন।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যেসব বন্ড বাজারে ছাড়া হবে সেগুলোকে আয়করমুক্ত রাখার বিধান অনেক দেশেই আছে।

সাম্প্রতিককালে চীনের শেনজেন-সাংহাই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্ট্র্যাটিজিক পার্টনারশিপ হওয়ায় অনেকে গেইন ট্যাক্স মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছেন। গেইন ট্যাক্স মওকুফ প্রস্তাবটি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে শর্ত থাকে, এই অতিরিক্ত পুঁজি যেন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়। এ টাকাগুলো বিদেশে পাচার বা বাজে খরচে যাতে না ব্যয় হয়, তার জন্য শর্ত জুড়ে দিতে হবে।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে আইন আছে, যদি বাড়ি বিক্রি করে লাভ হয় তাহলে তার ওপর গেইন ট্যাক্স ধার্য হয়। তবে দুই বছরের মধ্যে ওই টাকাটা নতুন বাড়ি কেনার জন্য খরচ করলে গেইন ট্যাক্স দিতে হয় না।

  • লেখকড. এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি। বর্তমানে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here