ভারতের ৩টি নৌবন্দরের দায়িত্ব নিল সামিট অ্যালায়েন্স

0
480

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের কলকাতা ও পাটনায় তিনটি নৌবন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের বিদেশী সাবসিডিয়ারি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ইস্ট গেটওয়ে (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেড (এসএপিইজিআইএল)। ভারতের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (আইডব্লিউএআই) সঙ্গে সম্পাদিত পিপিপি চুক্তি অনুসারে, প্রথম ছয় বছরে অর্জিত রাজস্বের পুরোটাই ভোগ করবে এসএপিইজিআইএল। স

প্তম বছর থেকে রাজস্বের ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ পাবে তারা। অবশিষ্ট অংশ নেবে আইডব্লিউএআই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়।

জানা গেছে, গত বছর আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিয়ে ভারতের কলকাতার গার্ডেন রিচ এবং পাটনার গাইঘাট ও কালুঘাট নৌ-টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার জন্য মনোনীত হয় সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম। দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গত সপ্তাহে চূড়ান্ত দায়িত্ব বুঝে নেয় এসএপিইজিআইএল।

ভারতীয় নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রথমবারের মতো সম্পাদিত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তির আওতায় সাপ্লাই, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেইন মডেলে আগামী ৩০ বছর নৌ-টার্মিনাল তিনটির ব্যবস্থাপনায় থাকবে এসএপিইজিআইএল। আইডব্লিউএআই নির্ধারিত ট্যারিফ রেটে টার্মিনাল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ফি সংগ্রহ করবে তারা।

৩০ অক্টোবর ভারতের নৌ সচিব শ্রী গোপালকৃষ্ণের উপস্থিতিতে আইডব্লিউএআই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বন্দর তিনটির ব্যবস্থাপনা বুঝে নেন সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন স্পেশাল পারপাস ভেহিকল কোম্পানিটির পরিচালক অশোক চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, ভারতীয় নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রথম পিপিপির আওতায় প্রথম বাংলাদেশী কোম্পানি হিসেবে বিদেশী টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়ে আমরা আনন্দিত।

জানা গেছে, ১ লাখ রুপি পরিশোধিত মূলধনের এসএপিইজিআইএলের তিন-চতুর্থাংশ শেয়ার রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের হাতে। অবশিষ্ট শেয়ারেরও প্রায় সবটাই সামিট গ্রুপের হাতে।

গত বছর দরপত্রে অংশ নেয়ার সময় বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট কর্তৃপক্ষ শেয়ারহোল্ডারদের জানিয়েছিল, টার্মিনাল তিনটির জন্য হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট ক্রয় ও স্থাপনে সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে ৩০ লাখ ডলার এবং প্রকল্প উন্নয়ন বাবদ বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইএফসির ফি হবে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে টার্মিনাল তিনটির সক্ষমতা তিন গুণে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এসএপিইজিআইএল। সেখানে সব মিলিয়ে ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। ১০ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের দক্ষিণ পতেঙ্গায় কোম্পানির পশ্চিম ডিপোয় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সভার রেকর্ড ডেট ছিল ১৮ অক্টোবর। বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়ায় ৬২ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ২৪ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ১ টাকা ৭ পয়সা।

২০০৮ সালে তালিকাভুক্ত ২৩২ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির ৫৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১০ দশমিক ৯১, বিদেশী ৩ দশমিক ৮৯ ও বাকি ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here