বহুজাতিক কোম্পানির সম্ভবনা বাড়ছে

1
636
স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের বেশ আধিপত্য। মন্দা বাজারে বেড়েছে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম। বিপরিতে দর হারিয়েছে ভালো মৌলের বা বড় মুলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর। তবে অনেকদিন পর চিত্রের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে বাজারে।
ভালো মৌলের কোম্পানি বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ভালো মূল্যায়ন হচ্ছে। টপটেন গেইনারেও স্থান করে নিয়েছে। দর সংশোধনের কারণেই দূর্বল কোম্পানিগুলো শেয়ারগুলো দর হারিয়েছে। যে কারণে আশা করা যাচ্ছে, বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সম্ভবনা অনেক। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সূচক ও লেনদেন উত্থানের চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দরে ছিল ঊর্ধ্বগতি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারেও এ প্রবণতা ছিল। ফলে সোমবার বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমলেও সূচক বেড়েছে। দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ছিল একইভাব।
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর হারানোতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৯ টিই তুলনামূলক দূর্বল কোম্পানির শেয়ার। এদের কোনোটি জেড গ্রুপভূক্ত, কোনোটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত কয়েকদিন ধরে লাগামহীনভাবে বাড়ছিল এদের দাম।
সোমবার ওই কোম্পানিগুলোর দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এদিন দর হারানোতে সবার উপরে ছিল রেনউইক যজ্ঞেশ্বর। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। অথচ আগের দিনও শেয়ারটির দাম বেড়ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আর এক মাসে এই শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ১৩৫ শতাংশ। টানা দর বৃদ্ধিকালে একাধিক দিন ডিএসইতে শেয়ারটির বিক্রেতা উধাও হয়ে পড়তে দেখা যায়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে (ডিএসই) টপটেন গেইনারের তালিকায় থাকা সব কোম্পানিগুলোই ভালো মৌলের। এর মধ্যে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের ২৭ টাকা বা ৫ শতাংশ দর বেড়ে গেইনার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৬৬ টাকা বা ৬ শতাংশ, নর্দান জেনারেল ইন্সুরেন্সের ২ টাকা বা ৬ শতাংশ, ফার্স্ট আইসিবি মিউচুয়্যাল ফান্ডের ৪০ টাকা বা ৪ শতাংশ, লিন্ডে বাংলাদেশের ৩৩ টাকা বা ৩ শতাংশ, প্রাইম টেক্সটাইলের ১ টাকা বা ৪ শতাংশ, বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ৯২ টাকা বা ৪ শতাংশ, এএমবিইই ফার্মার ১১ টাকা বা ৩ শতাংশ, ফারইস্ট ফিন্যান্সের ৩ পয়সা বা ২ শতাংশ এবং ফেডারেল ইন্সুরেন্সের ৯ পয়সা বা ৩ শতাংশ  শেয়ার দর বেড়েছে।

বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় মূলধনি কোম্পানি সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে ম্যারিকো বাংলাদেশের ৬ দশমিক ২ শতাংশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৩ দশমিক ২৫ ও লাফার্জ সুরমার শেয়ারের দর বাড়ে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। খাতওয়ারি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং, টেলিযোযোগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও ওষুধ খাতের শেয়ারের দর বাড়ে, যা সার্বিকভাবে সূচক বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

ডিএসইতে গতকাল ২৮৯টি কোম্পানির মোট ৫ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এর বাজারদর ছিল ২৮৭ কোটি ২৬ লাখ ৮ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বেশি।
ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৩.৩০ পয়েন্ট বেড়ে ৪৪৯১.৯৮ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১০.১০ পয়েন্ট বেড়ে ১৬০৩.৫৩ পয়েন্ট এবং ডিএসইএক্স শরিয়াহ সূচক ২.৩৯ পয়েন্ট কমে ৯৭৫.৯৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দর বাড়ে ১২৭টির, কমে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির।
সিএসইতে ২১৩টি কোম্পানির মোট ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ২৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দর বাড়ে ৮৩টির, কমে ১০৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here