বড় বিনিয়োগে যাচ্ছে মুন্নু জুট স্টাফলার্স

0
1249

সিনিয়র রিপোর্টার : বিদ্যমান কারখানায় বিএমআরই (সমন্বয়, আধুনিকায়ন, প্রতিস্থাপন ও সম্প্রসারণ) প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে মুন্নু জুট স্টাফলার্স লিমিটেড। এজন্য ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ।

দেশী-বিদেশী অর্থায়নের পাশাপাশি কোম্পানির নিজস্ব উত্স থেকে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। আগামী বছর বিএমআরই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

বিনিয়োগের বিষয়ে মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক (ফিন্যান্স) মোহাম্মদ ফয়েজ মাহফুজ উল্লাহ বলেন, কোম্পানির উত্পাদন সক্ষমতার পাশাপাশি বিক্রি ও মুনাফা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আমরা বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। বর্তমানে আমরা পাট ও বস্ত্রকলের যেসব যন্ত্রাংশ উত্পাদন করছি, সেগুলোর পরিধি আরো বাড়াতে চাই। এজন্য আমরা ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএমআরই প্রকল্প বাস্তবায়ন করব।

প্রয়োজন হলে প্রকল্পে অর্থায়নের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পাশাপাশি কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। তাছাড়া বিদেশী ব্যাংক থেকে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএমে) শেয়ারহোল্ডারদের কাছে কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের বিশদ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএমআরই প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সম্প্রতি কোম্পানিটির পর্ষদ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। স্টক লভ্যাংশ প্রদানের কারণে কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ও পরিশোধিত মূলধন আনুপাতিক হারে বাড়বে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৭৪ পয়সা, যা এর আগের বছরে ছিল মাত্র ৫৭ পয়সা।

সমাপ্ত হিসাব বছরে ইপিএস বাড়ার কারণ হিসেবে কোম্পানিটি বলছে, কারখানার যন্ত্রপাতি সংস্কারের পাশাপাশি নতুন কিছু যন্ত্রপাতি সংযোজন করায় এর উত্পাদন বেড়েছে। এতে কোম্পানির বিক্রিও বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যয় সংকোচনের কারণে কোম্পানির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ৩০ জুন কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ৫৩ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে ধামরাইয়ের ইসলামপুরে ৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।

এর আগে এ বছরের জুনে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় পর্ষদ। এজন্য কোম্পানির সংঘবিধি ও সংঘস্মারকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাবে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে গত ৮ আগস্ট ইজিএম আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জে মুন্নু জুট স্টাফলার্সের শেয়ার দর লাগামছাড়া বাড়ছে। এর মধ্যে ১ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৮৪৬ টাকা ৬০ পয়সা, যা ১৬ আগস্ট ৪ হাজার ৬৩৯ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। মুন্নু জুটের শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে গত ২৩ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তদন্ত কমিটি গঠনের পরও শেয়ার দর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কমিশন ৩০ দিনের জন্য এর শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে, যা ১৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো ১৫ দিন করে বাড়ায়। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর শেয়ার লেনদেনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এটিকে বাধ্যতামূলকভাবে স্পট ও ব্লক মার্কেটে পাঠানো হয়।

পাশাপাশি এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে আর্থিক সমন্বয় সুবিধাও প্রযোজ্য হবে না। কমিশনের পক্ষ থেকে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত মুুন্নু জুটের শেয়ার স্পট ও ব্লক মার্কেটে লেনদেন হবে। এদিকে লেনদেনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার পরবর্তী তিন কার্যদিবসে শেয়ারটির দর ৪ হাজার ৬৩৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৭৮ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। তবে এর পরের তিন কার্যদিবসে শেয়ারটির দর আবারো বেড়ে সর্বশেষ ২৫ অক্টোবর ৪ হাজার ৬৫৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

১৯৮২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মুন্নু জুট স্টাফলার্সের অনুমোদিত মূলধন ১ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৪৬ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here