শ্যামল রায়ঃ শেয়ার মার্কেটে একটি ভাল ব্রোকারেজ হাউজ একজন বিনিয়োগকারীর প্রথম শর্ত। কারণ যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিনিয়োগ করবেন সেটা যদি ভালমানের না হয়, তাহলে তার বিনিয়োগ ঝুকিতে পড়ে যায়। তাই একটি ভাল ব্রোকারেজ হাউজের খোঁজে সবসময় বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় নষ্ট করে থাকেন। তারপর নির্ভরযোগ্য একটি ব্রোকারেজ হাউজ খুঁজে পাওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত দুস্কর। কারণ দেশে এতগুলো ব্রোকারেজ হাউজের কোনটির মধ্যে কি সুবিধা আছে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই হিসাব মেলানো অত্যন্ত কঠিন। এই দিকটা মাথায় রেখে স্টক বাংলাদেশ বরাবরের মত আরও একটি পদক্ষেপ নিয়েছে, দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্রোকারেজ হাউজ সমূহের প্রোফাইল তুলে ধরার। এর মাধ্যমে বিনিয়গকারীরা খুব অল্প আয়েসেই খুঁজে নিতে পারবেন তাদের পছন্দ সই ব্রোকারেজ হাউজ সমূহ।

এ আই বি এল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিঃ

“We take care, we  serve better” এই স্লোগানকে ধারণ করে ২০০৮ সালের ১৭ নভেম্বর আল-আরাফাহ-ইসলামী ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসাবে মতিঝিলের ৩৬ নং বিল্ডিংয়ে পিউপলস ইন্সুরেন্স ভবনে  এ আই বি এল ক্যাপিটাল মার্কেট  সার্ভিসেস লিঃ যাত্রা শুরু করে। ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেডিং শুরু করে। তাদের অনুমোদিত মুলধন এক হাজার কোটি টাকা এবং পেইড আপ ক্যাপিটাল চারশত কোটি টাকা।

সারা দেশে তাদের ব্রাঞ্চের সংখ্যা ৮টি।  এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার গুলশান, উত্তরা, ধানমন্ডি, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রামের  খাতুনগঞ্জ বিবাড়িয়া ও বরিশালে তাদের একটি করে ব্রাঞ্চ রয়েছে। এই মুহুর্তে তাদের মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় দশ হাজার জন।

এ আই বি এল এর শেয়ার ট্রেডিং পদ্ধতি অত্যন্ত স্বচ্ছ। বিনিয়োগকারীরা এই হাউজের  মাধ্যমে ডিএসই এবং সিএসইতে সরাসরি ট্রেড করতে পারেন। কিছু অভিজ্ঞ, নিবেদিত প্রাণ এবং দক্ষ কর্মীর মাধ্যমে বিনিয়োকারীরা এখানে ট্রেড সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সুবিধার কথা বলতে গিয়ে এ আই বি এল ক্যাপিটাল মার্কেটের সিইও এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ সোহেল রানা জানালেন, “আমাদের ট্রেডিং ইনভাইরনমেন্ট অত্যন্ত ফ্রেন্ডলী”। আমরা ক্লায়েন্টদের চাহিদা ভিত্তিক সুবিধা দিয়ে থাকি। ভিআইপি ক্লায়েন্ডদের মোবাইলে ট্রেড সুবিধা দিয়ে থাকি। এছাড়া প্রত্যেক ক্লায়েন্টদের আফটার ট্রেড ইমেইলে তাদের পোর্টফোলিও পাঠাবার ব্যবস্থা আছে আমাদের।

ভিআইপি ক্লায়েন্টদের তথ্য গোপন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় আমাদের । অর্থাৎ ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে ১০০% স্বচ্ছতা প্রদান করে থাকি আমরা। আইটির জন্য স্পেশাল অল্টারনেটিভ ব্যবস্থা নেওয়া আছে আমাদের। কোন কারণে একটি সিস্টেম ফেইল করলে অটমেটিকেলি অন্য সিস্টেমটি চালু হয়ে যায়।

এখানে টাকা তোলার জন্য বিনিয়োগকারীদের কোন ধরনের ঝামেলা করতে হয় না । যারা চেক চায় তারা চেক নিতে পারেন অথবা ইএফটিএন পদ্ধতির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের একাউন্টে চলে যায়। আমরা ক্লায়েন্টদের ওয়াইফাই সুবিধা প্রোভাইড করে থাকি। এছাড়া রিফ্রেসমেন্ট এর ব্যবস্থা রয়েছে আমাদের। আমাদের যেহেতু ডুয়েল মেম্বারশিপ রয়েছে, রুলস অনুযায়ী মার্জিন সুবিধাও দিয়ে থাকি আমরা ।

গ্রাহকের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এ আই বি এল বেশ কিছু স্পেশাল একাউন্ট সুবিধা চালু করেছে। এর মধ্যে ‘মুশারাকা’ ট্রেক হোল্ডারস ডিসক্রিশনারী একাউন্ট (এম টি ডি এ) অন্যতম। এই একাউন্টে কোম্পানি এবং ক্লায়েন্টদের মাধ্যমে চুক্তির ভিত্তিতে লাভ লস ভাগ করা হয়ে থাকে। এটা যেহেতু কোম্পানী  অপারেট করে থাকে তাই ক্লায়েন্টদের এখানে কোন টেনশন থাকে না। এছাড়াও বেশকিছু একাউন্ট সুবিধা রয়েছে এ আই বি এল এর । যেমন, ডিপোজিটরী পারটিসিপেন্ট (DP) সার্ভিসেস, ডিসক্রিশনারী একাউন্ট সার্ভিসেস, সার্ভিস টু নন রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস ইত্যাদি।

দেশে এতগুলো ব্রোকারিজ হাউজ থাকতে মানুষ কেন এ আই বি এল এ আসবেন- জানতে চাইলে সিইও বলেন, “যেহেতু প্রতিযোগিতার যুগ, ক্লায়েন্টরা যাতে সর্বোত্তম সহযোগিতা পাই সেই চেষ্টা বরাবরই করে থাকি আমরা। ক্লায়েন্টদের স্কীল ডেভেলপড করার জন্য মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষনের মাধমে সচেতন করছি আমরা।” এছাড়া এ আই বি এল এর প্রত্যেক বিনিয়োগকারী যেন এক একজন এ্যানালিস্ট হতে পারেন সেই চেষ্টা রয়েছে আমাদের । আর আমরা মার্কেটে অলমোষ্ট হাইয়েস্ট পেইড আপ ক্যাপিটাল কোম্পানী। বরাবরই র‍্যাংকিংয়ে ৫/৬ এর  মধ্যে অবস্থান করি আমরা। গ্রাহকদের আস্থা আছে বলেই এত ভালো পারফর্ম করতে পারছে এ আই বি এল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here